প্রদীপ্ত যৌবন অতৃপ্ত মন- চৌধুরী শামসুল আরেফীনের কাব্যগ্রন্থ

share on:
প্রদীপ্ত যৌবন অতৃপ্ত মন

প্রদীপ্ত যৌবন অতৃপ্ত মন চৌধুরী শামসুল আরেফীনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রক্তকণিকা ( ২০১৬)।

সাহিত্যের সর্বাধিক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ শাখা কবিতা। মানুষের জীবনবোধ কবিতায় তুলে ধরেন কবি তাঁর যোগ্যতার মহিমায়। কবি চৌধুরী শামসুল আরেফীন তাঁর প্রদীপ্ত যৌবন অতৃপ্ত মন কাব্যগ্রন্থটিতে তেমনি জীবনবোধ তুলে ধরতে শতভাগ সফলতার সাক্ষর রেখেছেন।

গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি কবিতাই অসাধারণ শৈল্পিক চাদরে মোড়ানো। তাঁর প্রদীপ্ত যৌবন কবিতাটি তারুণ্যের প্রতি মোটিভেশনাল উচ্চারণ।

‘ আশাহত গন্তব্যে বিবর্ণ বিলীর না হয়ে
আঠারো বিশ এর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ুক শতকে।’

আবার অতৃপ্ত মন কবিতাটিতে সখ্যতা ও সভ্যতা সংস্কৃতির থেকে পাওয়া ব্যথার অনুভূতি ব্যক্ত হয়েছে।

‘কোথায় বোঝাতে পারিনি দু’বাহুর অভ্যন্তরে
বিশ্ব ধারণ করার যোগ্যতা রাখি-
যদিও ধারণের যোগ্যতা রাখে না, সমাজ-সভ্যতা-সংস্কৃতি।’

আর এই দুই কবিতার নামের সমন্বয়ে বইয়ের নামকরণ ‘প্রদীপ্ত যৌবন অতৃপ্ত মন’ করে কবি এক বিশেষ মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। দুটি কবিতার নামে বইয়ের নামকরণ আমি এই প্রথমই দেখেছি।

শাসন তোষণ অসামাজিক অপরাজনীতির বিরুদ্ধাচারণ কবি মাত্রই হয় না। এর জন্য যেমন যোগ্যতার প্রয়োজন, তেমন সাহসিকতার প্রয়োজন। কবি আরেফীনের ঘোষণা পত্র, বেশ্যাতন্ত্র, ভোগ সৌরভ, কুপ্রথা, অনাহারী, ক্ষুধা দ্রোহের উত্তপ্ত লাভায় সিক্ত অসাধারণ সাহসী উচ্চারণ। যা আজকের পচনধরা সমাজে বিশেষ ঝাঁকুনি দেয়ার যোগ্যতা রাখে।

তাঁর রেণু কবিতাটি যখন পড়ছিলাম তখন বারবার মনে হচ্ছিল জাতি হিসাবে আমরা কতটা নীচ! অর্ধশতক পরেও স্বাধীনতার সুফল কার ঘরে, কার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে আজ।

‘কিন্তু কাকে বীরাঙ্গনা বলছি?
সে দশের কাছে আজও বীরাঙ্গনা হতে পারেনি-
হয়েছে করঙ্ক কালিমায় আচ্চাদিত অপয়া।’

স্বাধীনতার মহাকাব্য কবিতাটি ইতিহাসের মাইলফলক- সোনার মোড়কে তারুণ্যের হাতে তুলে দেয়ার মতো। ফাল্গুনী আর পরিচয় কবিতায় আরেফীন প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়েছেন। আবার দাবদাহ, ক্রন্দন্মুখ, স্বপ্নডানা কবিতায় দার্শনিক স্বত্ত্বার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

শামীম রেজা
লেখক- শামীম রেজা,
কবি ও নাট্য পরিচালক।

মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য বিষয় যৌনতাকে শৈল্পিক ছোঁয়ায় প্রকাশের চেষ্টা করেছেন অনেক কবি।

তবে সেক্ষেত্রে আরেফীন কতটা সফল তা সহজেই অনুমান করা যায় তাঁর শিহরণ, উৎসব, বান্ধবীর মধ্যমা, দেবী ও দেউলিয়া সখ্যতা কবিতা থেকে।

কবি মানেই প্রেমিক। আরেফীনও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। নির্বাক প্রণয়, ছোঁয়া, প্রেয়সী, তৃপ্তি, সঞ্চারী, সুগন্ধ, অবুঝ প্রিয়া, আরতি, কবিতাগুলো প্রেমময়ী হৃদয়ের প্রস্ফুটিত রুপ।

শব্দচয়নে কবির নিজস্ব মুন্সিয়ানা নজর কাড়ার মতোই। বইটিতে কবির সৃষ্ট বেশ কয়েকটি নতুন শব্দের ছড়াছড়ি ছিলো। যা একজন কবির মৌলিক কবিত্বের বৈশিষ্ট্য।

ইতিমধ্যে বাজারে বইটির বেশ কাটতি দেখা দিয়েছে। প্রকাশের ২৮ দিনের মধ্যে বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ বাজার এসেছে। যা যেকোন কাব্যপ্রেমির জন্য সুখকর।

প্রদীপ্ত যৌবনের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, জেগে উঠুক তারুণ্য, সমৃদ্ধ হোক বাংলা সাহিত্য।

বিজ্ঞাপন : বাংলাদেশের ভূস্বর্গ বান্দরবানের থানচিতে ঘুরে আসুন পরিবার নিয়ে :

Facebook Comments Box
share on:
শামীম রেজা

শামীম রেজা

কবি ও নাট্য পরিচালক।