আকিরা কুরোসাওয়ার সাক্ষাৎকার

share on:
আকিরা কুরোসাওয়ার সাক্ষাৎকার

আকিরা কুরোসাওয়ার সাক্ষাৎকার ব্যক্তি আকিরা কুরোসাওয়া , তাঁর চলচ্চিত্র, সমাজ ভাবনা ও চলচ্চিত্র ভাবনা বুঝতে সাহায্য করবে। সাক্ষাৎকারটি তৈরি করা হয়েছে ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তাঁর বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাৎকার থেকে।

আকিরা কুরোসাওয়া প্রথম জাপানিজ চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে ওঠেন ১৯৫১ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘রশোমন’ সেরা চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে। তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণে টেকনিক ও গল্প বলার ধরন ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান চলচ্চিত্র দ্বারা প্রভাবিত, বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র দ্বারা।

সংস্কৃতিবানেরা ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

আকিরা কুরোসাওয়া বিশেষভাবে পারদর্শী ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকসমূহের সম্পর্কে। আর এজন্য জাপানে আকিরা কুরোসাওয়া ‘চলচ্চিত্রের সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

আপনার ডাকনাম সম্রাট হলো কিভাবে?

এটা আমি পেয়েছি সাংবাদিকদের কাছ থেকে, তাঁরা আমাকে এই নামেই ডাকতে বেশি পছন্দ করে।

আপনি পেইন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু পেইন্টার না হয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা হলেন কেন?

আমার পেইন্টার না হওয়ার একটা কারণ হলো- আমি পরীক্ষায় পাশ করি নাই।

আপনার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার সবচেয়ে প্রিয়?

কেউ কেউ বলে সেটা হলো ‘সেভেন সামুরাই’। সেভেন সামুরাই সেই সময়ের চলচ্চিত্র যখন আমার জনপ্রিয়তা ছিলো শীর্ষে। তারপরেও, ব্যক্তিগত এটা আমার পছন্দের চলচ্চিত্র নয়। তাছাড়া একটি কাজের জন্ম দেওয়ার পেছনে যখন কারও অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকার ব্যপার থাকে, একেবারে আইডিয়া থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার জন্য, তখন আলাদাভাবে একটি কাজকে বেশি প্রিয় ভাবা আর সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। আমি বলতে চাই, আমার প্রত্যেকটা চলচ্চিত্রই আমার কাছে আলাদা আলাদা যায়গা থেকে আমার প্রিয়, আমার জীবনের এক একটি অংশ।

কোন ধরণের চলচ্চিত্র আপনি তৈরি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

আমি কোন চলচ্চিত্রই করি না যা আমি চাই না। আমি সেই চলচ্চিত্র করতে উৎসাহী হই না সেখানে আমাকে বেশি টাকা কামানোর জন্য জোর করা হয়। এটা ভাল হোক বা না হোক, এইক্ষেত্রে আমি দৃঢ়। একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার অবশ্যই একটি বিষয়ে বিশ্বস্থ থাকতে হবে, নিজের কাছে সৎ থাকা এবং তার কাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। একজন প্রোডিউসার একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে অবশ্যই টাকা দিবেন, যদি একজন নির্মাতা প্রোডিউসারকে তার ক্রিয়েটিভিটি সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন করাতে পারে। তবে এটাও সত্যি কথার মাধ্যমে টাকা আদায় করাটা অনেক বেশি কঠিন। তারচেয়ে, এটা খুবই সহজ কাজ জাপানের ইতিহাস ও তার কালচারাল ভেলুজ তুলে ধরার একটা ধোয়া তুলে খুব সহজেই টাকা আদায় করা যায়।

আপনার চলচ্চিত্র সম্পাদনার ক্রেডিট থাকে না কেন?

নিজের কাজ নিজে করা মানে মানে হলো সেটা মৌলিক কাজ। আমিই সবকিছু করি। সম্পাদনা করা নির্মাতা হিসেবে কাজ করারই একটি অংশ। আমি প্রতিদিন শ্যূটিং শেষে আমার রাশগুলোকে এডিট করি। এই ক্ষেত্রে আমি অন্যদের থেকে একটু আলাদা। আমি এটা পছন্দ করি প্রিন্ট করার আগে লাস্ট মিনিট ডিসিশন বলে যে একটা ব্যাপার থাকে তা আর আমার বেলায় খাটে না।

তাছাড়া দৃশ্যের ফ্রেশ ফিলিং থাকতে থাকতে এডিট করাটা বেশি এফেকটিভ মনে হয় আমার কাছে। এটা ফাইনালি সঠিক সম্পাদনা করার ক্ষেত্রে অনেক সহজ হয়ে যায়। আমি প্রতিদিন শ্যুটিং শেষে রাফ এডিটিং এর জন্য সর্বোচ্চ দুই ঘন্টা সময় রেখে দেই।

সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সময়ে আমি একথা বুঝে গেছিলাম যে সম্পাদনা ঠিকঠাকমতো করতে না জানলে ভাল চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়া যায় না। সম্পাদনার টেবিলেই একটি চলচ্চিত্র তার জীবন পায়। সেই রকমের জীবন যা আমি ও গতি যা আমি আমার চলচ্চিত্রে চাই।

একটা চলচ্চিত্র করতে আপনি কতোদিন সময় নেন?

আমার একটি চলচ্চিত্রের শ্যুটিং শেষ হতে আট-নয় মাস সময় লেগে যায়। আর আমি প্রতিদিন শ্যুটিং করি না। আমি একসঙ্গে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করি শ্যুটিং এর সময়। আমি খুব কমই আমার শট ও কাট রিপিট করি। মাঝে মাঝে একসঙ্গে ১৬ মিনিট শ্যুট করি।

অভিনেতাদেরকে আপনার চরিত্রের উপযোগি করে তোলার পেছনের গোপন রহস্য কি?

আমি রিহার্স করাই ও তাদের আমার চরিত্রের উপযোগি করে তৈরি করি। আর এটা করতে আমার আট মাসের মতো লেগে যায়, এই দীর্ঘ সময়ে তারা চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় এবং নিজেরাই বুঝতে পারে কখন তাদের কি ধরণের ইন্টারপ্রিটেশন এর দরকার হবে। একটি চরিত্র তৈরি করার জন্য অভিনেতাদের সময় দেওয়া উচিত, আর আমি তা দেই। এখানে কোন রহস্য-টহস্য নেই। প্রথম কাজ হলো তাদের মধ্যে প্যাশেন্সটা তৈরি করার।

অভিনেতারা আমাদের কথাগুলো বলে এবং সেগুলো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। একে অপরের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র ঠিক এই ভূমিকাটাই পালন করে। এটাই চলচ্চিত্রের দায়িত্ব। চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে ভালোবেসে। আমি মনে করি এখনকার তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতারা এটা ভুলে গেছে। এর পরিবর্তে তারা বিভিন্নরকম হিসাব কষে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে।

যে কারণে এখন আর জাপানি চলচ্চিত্রের তেমন কোনো দর্শক নেই। চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে সততার সঙ্গে মানুষের হৃদয় লক্ষ্য করে। আমার গুরু ইয়াসুজিরো ওজু (জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা) এবং আমাদের সময়ে কোনো নির্মাতা তত্ত্ব ও হিসাব কষে চলচ্চিত্র বানায় নি। এ কারণে জাপানি চলচ্চিত্র তার স্বর্ণালী সময়ে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছিল।

তরুণ নির্মাতারা দর্শককে বোকা বানানোর জন্যে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে- এটা ঠিক না। দর্শক যাতে উদ্দীপিত হয় সেকারণে আমরা চলচ্চিত্র বানিয়ে তাদের সামনে পরিবেশন করবো। পরিশেষে, লক্ষ্য থাকবে একটা শিল্পসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করার।

আপনার চলচ্চিত্রে প্রকৃতিকে আমরা চমৎকারভাবে পাই, এটার ভেতরে কি কোন ইঙ্গিত আছে?

হ্যা, আমার চলচ্চিত্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রকৃতি। আমি আমার চরিত্রগুলোর ইমোশন তুলে ধরতে প্রকৃতিকে ব্যবহার করি। আমি মনে করি, প্রকৃতির সঠিক উপস্থাপনের ক্ষমতার মধ্য দিয়ে একটি খারাপ চিত্রনাট্য ও অপেশাদার অভিনেতা দিয়েও ভাল চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব। আমি আমার অভিনেতাদেরকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করার একটা প্রচেষ্টা করে থাকি। আমার মনে হয় এজন্যই নতুন একজন অভিনেতাও অনেক ভাল অভিনয় করে।

ভাল চলচ্চিত্র তৈরির জন্য কি করা দরকার? আপনি এজন্য কি করেন?

যখন আপনি একটি চলচ্চিত্র তৈরি করবেন, তখন আপনাকে চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হতে হবে- তার দুঃখে আপনি কাঁদবেন , সুখে হাসবেন, একত্রে সবকিছুর মোকবিলা করবেন- এটাই হলো চলচ্চিত্র।

আমি আমার ক্রিয়েটিভিটির যে এবিলিটি আছে তার মাধ্যমেই সবকিছু করি। যা আমি করতে পারি না, তা করার চেষ্টা আমার মধ্যে নেই। আমি আমার চেনা সমাজ ও চেনা মানুষকে এবং তাদের সমস্যাকে আমার বিষয় হিসেবে বেছে নেই। এর ভেতরকার যে লুকায়িত নতুনত্ব তা আমার ক্ষমতা দিয়ে বের করে নিয়ে আসি।

আমি খুবই খুশি যে আমি আমাকে প্রকাশ করতে পারছি। আমি আমার প্রফেশনের প্রতি দায়িত্ববান, সত্যবাদী ও সৎ থাকার চেষ্টা করি। আপনি যখন আমার চলচ্চিত্র দেখতে যাবেন তখন বুঝতে পারবেন যে, গল্প বলার ক্ষেত্রে আমার গোপন কোনো বিষয় নেই।

বিনোদন হিসেবে চলচ্চিত্রকে তুলনা করলে তৃতীয় বিশ্বের চলচ্চিত্রগুলো পশ্চিমা দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারছে বলে আপনি কী মনে করেন?

সভ্যতা মানবতাকে বিষিয়ে তুলেছে। নির্মাতার মানবিক চরিত্র হচ্ছে একটা ভালো চলচ্চিত্রের মেরুদণ্ড। আমরা যদি নিজেদের কাছেই সৎ না থাকতে পারি তাহলে কখনোই একটা ভালো চলচ্চিত্র বানাতে পারবো না। তার মানে এই নয়, একটা দেশ যদি ভালো হয় তাহলে সেখানকার নির্মাতারা অনিবার্যভাবেই ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।

যে ব্যক্তি ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সক্ষম সে জানে দর্শকের মনের মধ্য থেকে কীভাবে তার উপায় খুঁজে বের করতে হয়। এই যেমন জন ফোর্ড, জঁ রেনোয়া, জন হাস্টন, ফেদরিকো ফেলিনি, সিডনি লুমেট; আমি এদের প্রত্যেকের সাথে কথা বলেছি। তাদের কাজও ব্যতিক্রমী এবং চরিত্রের দিক দিয়েও তারা আলাদা।

তাদের সঙ্গে একটা আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করা খুবই সহজ আর যেটার প্রয়োজন খুব বেশি। যেসব ব্যক্তিদের তারা চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলে তাদের কেউই পূর্বনির্ধারিত নয়। তারা খুব স্বাভাবিকভাবে মানুষের সম্পর্কগুলোকে প্রকাশ করে। যে কারণে চলচ্চিত্র মনোমুগ্ধকর হয়। সিডনি লুমেট আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আড্ডা দেওয়ার জন্যে বসলে কখনোই চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করি না।

সাধারণত আমরা খুব তুচ্ছ বিষয়, সামাজিক সমস্যা কিংবা আমাদের শখগুলো নিয়ে আলোচনা করি। এ ব্যাপারটাকে খুব উপভোগ করি আমরা। প্রতিবেদকরা সব সময় আমার চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন করলে বলি, তেমন কিছুই না। আমরা সাধারণ কথা বলি। একটি চলচ্চিত্র তথাকথিত কোনো বক্তৃতা নয়।

সমাজ ক্রমাগত দুর্নীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। অতীতে আমাদের প্রাচুর্য বা আরামের কোন উপায় ছিল না কিন্তু মানুষ বাস করতো স্বাভাবিকভাবে। ইদানীং জাপানের গণমাধ্যমে হামেশাই খুন ও সহিংসতার খবর দেখা যায়। আমি যখন ছোট ছিলাম, হত্যাকাণ্ড হতো খুব কম এবং কেউ যদি এটার চেষ্টাও করতো তাহলে চারপাশে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে যেতো। আমি শুনেছি আমেরিকাতে এই পরিস্থিতি আরো খারাপ। অতীতে মানুষ খুব ভালো ছিল।

এর কারণ হিসেবে আপনি কী মনে করেন?

জাপানের সমাজ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়েছে যার প্রক্রিয়াটা খুব অস্বাভাবিক ছিল। দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলেছে। বেঁচে থাকার জন্যে অনেক সময় ব্যক্তিকে তার ক্ষমতা অতিক্রম করে কাজ করা জরুরি হয়ে পড়ে। যে কারণে মানুষের মধ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।

এ সবকিছুর মধ্যে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার দায়টা কোথায়?

বর্তমানে খুব কমই ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। ইয়াকুজা (জাপানি মাফিয়া) চলচ্চিত্র বা এ রকম আমেরিকান সহিংস চলচ্চিত্রগুলো আশ্চর্যজনকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেখানে শিশুদের উপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সেদিক থেকে এটা খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা। আমি কিছুদিন আগে শুনলাম একজন ইংরেজ তরুণ একটা ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে। সহিংসতা একবার সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠলে এটা শিশুদের মন ও মেধা বিকৃত করে।

তার মানে সহিংসতাকে আপনি ঘৃণার চোখে দেখছেন?

হ্যাঁ, সহিংসতাকে আমি ঘৃণা করি। বর্তমানে শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতেই সমস্যা। আর এগুলোই এইসব সহিংসতা উত্থানের কারণ। হাল সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থাটা জাপানে আয়ের একটা উৎস হয়ে উঠেছে মাত্র। আমি আমার নাতিকে স্কুলে দেওয়ার পক্ষপাতি নই। আজকাল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে একজন দায়িত্ববান শিক্ষক খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল। সেখানে তারা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যতিক্রমী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হয়।

‘মাদাদাইয়ো’র গল্পে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সাধারণভাবে স্কুল থেকে যা শেখে, তার থেকে বেশি শেখে শিক্ষকের আচরণ থেকে। এমনকি যখন গ্র্যাজুয়েট হয়ে যায় তখনও শিক্ষকের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ততা তাদের থাকে। একটা বিদ্যালয়ের বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান ও দর্শন। সেখানে আলোচনা ছিল যে, একজন মানুষের আসলে কেমন হওয়া উচিৎ; যা পাঠ্যক্রমের কোন অংশই ছিল না।

যুদ্ধের আগে সেনাবাহিনীর লক্ষ্য হিসেবে ‘যুক্তি’ শেখানো হয়েছিল কিন্তু যুদ্ধের পর সেই ‘যুক্তি’ নিষিদ্ধ করা হয়। এক্ষেত্রে ওই বিষয়টির কোন সমস্যা না, কোন পদ্ধতিতে বিষয়টি শেখানো হচ্ছে সেটাই সমস্যা। এটা একটা মস্ত ভুল। অতীতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্যে বিদ্যালয়গুলো উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতো কিন্তু এখন ঠিক এর উল্টোটা ঘটে। আজকাল জাপানে কলেজে ভর্তি হওয়াটা খুবই কঠিন। তবে কোন রকমে কলেজে ভর্তি হওয়াটাই যথেষ্ট।

এরপর কোন ধরনের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কয়েক বছরের মধ্যে গ্র্যাজুয়েট। বিপরীতে পশ্চিমে কলেজে ভর্তি হওয়াটা খুব একটা কঠিন না। কিন্তু এর পরিবর্তে সেখানে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শেখানো হয় এবং কেউ যদি সেটাতে পাশ না করে তাহলে সে গ্র্যাজুয়েট হতে পারবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় জাপান ভুল পন্থা অবলম্বন করেছে। আমাদের রাজনীতিকরা প্রতিনিয়ত এই ভুল পদক্ষেপের পুনর্বিবেচনা করতে বলে। এটা খুবই দুঃখজনক যে অশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পারমাণবিক অস্ত্রের উপর আপনি চলচ্চিত্র বানিয়েছেন। রাশিয়া পতনের পর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা কমেছে বলে আপনি কি বিশ্বাস করেন? এই বিষয়ের উপর অন্য কোন চলচ্চিত্র বানাবেন কি?

‘আই লাইভ ইন ফেয়ার’ (১৯৫৫) এবং ‘র‌্যাপসডি ইন অগাস্ট’ (১৯৯১) পারমাণবিক বোমার উপর নির্মিত। ‘ড্রিমস’ (১৯৯০) চলচ্চিত্রটির একটি পর্বেও এই বিষয়ের উপস্থাপন আছে। পারমাণবিক বোমার ব্যাপারে চিন্তা করা খুবই জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, শক্তি ঘাটতির কারণে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা হয় কিন্তু তারা জানে না কীভাবে পারমাণবিক বর্জ্য অপসরাণ করতে হয়। তাই আমরা যে বিপদের মুখোমুখি হবো তা আমি দেখতে পাই। আসলেই যদি শক্তির ঘাটতি থাকে তাহলে আমরা শক্তি সংরক্ষণ করতে পারি।

টোকিওর মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এমনভাবে যে, আগামীকাল বলে আর কিছু নেই! এটার প্রয়োজন নেই। আমরা যদি কেবল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দক্ষ কর্মচারী নিতে পারি তাহলে বাতাস কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে নতুন শক্তি উৎপাদন করতে পারবো। আমি মনে করি পারমাণবিক বর্জ্য অপসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কোন বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর চিন্তা করছেন?

অতীতে নিজেদের চিন্তা করার আগে মানুষ অপরের চিন্তা করতো। এখন আমরা পিছন ফিরে দেখি, ব্যাপারটা আশীর্বাদের মতো ছিল যদিও সেটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। অতীতে প্রতিবেশীদের মধ্যে উষ্ণ এবং আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। আর এখন দরজার পাশের প্রতিবেশীটা কী করছে তার খোঁজও কেউ রাখে না। আমি এখনো মনে করি এ ধরনের বন্ধুত্ব জরুরি।  যদি এ বিষয়টি পর্দায় আনা হয় তাহলে এটা বেশ কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন : জিম জারমুশ : সিনেমা নির্মাণে পাঁচ পরামর্শ।

Facebook Comments
share on:
পার্থিব রাশেদ

পার্থিব রাশেদ

সম্পাদক ও প্রকাশক, সংস্কৃতি ডটকম। পার্থিব রাশেদের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে। বর্তমানে তিনি বিজ্ঞাপনচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রকাশিত বই - তিতাস একটি নদীর নাম : চিত্রনাট্য, তিতাস একটি নদীর নাম : চিত্রনাট্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ( সহ সম্পাদনা)।