গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার : প্রথম পর্ব

share on:
গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার

গুন্টার গ্রাসের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এলিজাবেথ গ্যাফনি। এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় প্যারিস রিভিউতে ১৯৯১ সালের গ্রীষ্ম সংখ্যায়।

প্রথম উপন্যাস ‘দ্য টিন ড্রাম’ দিয়েই পাঠকের মন জয় করেছিলেন গুন্টার গ্রাস। এ ছাড়া তাঁর খ্যাতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ ও ‘ডগ ইয়ার্স’ উপন্যাসের নামও। তিনটি বইয়েই তিনি তুলে আনেন তাঁর নিজের শহর ডানজিশে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর উত্থান ও নির্মমতার কথা।

গুন্টার গ্রাসের লেখা প্রথম তিনটি বই ডানজিশ ট্রিলজি হিসেবে পরিচিত। এই বইগুলোতে উঠে এসেছে তাঁর শৈশব ও অতীত দিনের কথা। তাঁর প্রথম উপন্যাস দ্য টিন ড্রাম অনুসরণে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল। ২০০২ সালে গুন্টার গ্রাসের লেখা ‘ক্র্যাবওয়াক’ উপন্যাসেও উঠে এসেছে বর্তমানের ওপর অতীতের প্রভাবের কথা।

একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী। ‘টিনড্রাম’ উপন্যাসের জন্য ১৯৯৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

মুদি দোকানদার বাবা-মায়ের ঘরে ১৯২৭ সালের ১৬ অক্টোবর গুন্টার গ্রাসের জন্ম। তিনি পড়াশোনা করেছেন ভাস্কর্য ও গ্রাফিকস নিয়ে। তবে তিনি ছিলেন শখের ভিজুয়্যাল শিল্পী। তাঁর লেখা আর শিল্পে বারবার এসেছে জার্মানির অতীত ইতিহাস।

‘পিলিং দ্য ওনিয়ন’ নামে ২০০৬ সালে একটি আত্মজীবনী লিখেছিলেন এই নোবেলজয়ী। সেখানে তিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা গোপন রাখার ব্যাখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, ‘যুদ্ধের পর আমি আমার কৈশোরের লজ্জাটুকু আড়াল রাখতে চেয়েছিলাম।’

আপনি কিভাবে লেখক হয়ে উঠলেন?

আমার মনে হয় যে সামাজিক পরিবেশ এর মধ্যে আমার বেড়ে ওঠা, সে পরিবেশে এটা করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিলো না। আমি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। আমাদের ছোট্ট দুকামরার একটা বাড়ি ছিলো। আমার আর আমার বোন জানতাম না নিজস্ব রুম বলে কারও কিছু থাকতে পারে। আমরা থাকতাম একই ঘরে- সেই ঘরের দুই জানালার ফাঁকে ছোট এক কোনায় আমার বই গুলো রাখতাম। শুধু কী বই- জলরঙ করার জিনিস পত্র- এমন অনেক কিছু। মাঝে মাঝে আমি অভাব অনুভব করতাম। ছোট বেলাতেই আমি আমার আত্মার চিৎকার শুনতে পেয়েছিলাম। আর সে জন্যই ছোট বেলা থেকে লিখতে আর আঁকতে শুরু করি। আজ আমার যে সহায়-সম্পত্তি তার সমস্তই হয়তো সেই সূচনার ফলাফল। চারটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পড়া-শোনা করেছি। আমার শৈশবের সেই রূঢ় বাস্তবতা আর একটা ঘরের ছোট্ট কোনায় আমি আর আমার বোনের বেঁচে থাকার সেই স্মৃতিকে আমি আজও ভয় পাই।

এমন পরিপার্শ্বের ভেতর খেলাধূলা অথবা অন্য কোন সহজ কাজ না করে পড়া আর লেখালেখির মত কঠিন একটা বিষয় কেনো বেছে নিলেন?

শিশু কালে আমি খুব মিথ্যাবাদী ছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে আমার মা আবার আমার এই মিথ্যাগুলোকে খুব পছন্দ করতো। আমি তাকে মহান কিছু বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমার বয়স যখন দশ বছর তখন মা আমাকে পিয়ার গিয়স্ট নামে ডাকতো। সেই সময় আমাদের নেপলস ভ্রমনের কথা ছিলো। মা আমাকে সেই ভ্রমন সমন্ধে একটা গল্প লিখতে বলেছিলো। আর তখন থেকেই আমি মিথ্যা লেখা শুরু করি। আর সেই মিথ্যাচার আমি চালিয়েই গেলাম। বারো বছর বয়সে আমি উপন্যাস লেখা শুরু করি। এটা ছিলো Kashubium সর্ম্পকিত, যা বহু বছর পর The Tin Drum-এ Oskar এর দাদি Anna চরিত্রে রূপান্তরিত হলো। প্রথম এই উপন্যাসে আমি একটা ভুল করেছিলাম। উপন্যাসটির প্রথম অধ্যায়ের শেষের দিকে সমস্ত চরিত্রের মৃত্য ঘটে গেলো। আমার আর শেষ করা হলো না। তবে এটাই হলো আমার উপন্যাস লেখার প্রথম শিক্ষা চরিত্র সমন্ধে সচেতনভাবে খুব সাবধান থাকতে হয়।

কোন মিথ্যা আপনাকে সব থেকে বেশী আনন্দ দিয়েছে?

যে মিথ্যা কাউকে আঘাত করে না, কাউকে বাঁচায়। আমার অভিনব মিথ্যাচার গতানুগতিক মিথ্যাচার থেকে বেশ আলাদা। এটা আমার পেশা নয়। সত্য বড় ক্লান্তিকর, তুমি মিথ্যার সাথে সত্যকে ব্যবহার করতে পারো। এতে দোষের কিছু নেই। আমি এটা বুঝেছি যে আমার ভয়ংকর মিথ্যার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। যদি কয়েক বছরের জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে কিছু লিখতাম তবে লোকে বলতো, কী নিদারুণ মিথ্যাবাদী।

 প্রথম উপন্যাসে ব্যর্থতার পর আপনি কি করলেন?

কবিতা আর ড্রয়িং নিয়ে আমার প্রথম কবিতার বই। প্রকৃতপক্ষে আমার কবিতায় ছিলো ড্রয়িং আর গদ্যের সমাবেশ, কখনও কখনও তা চিত্রকল্পের বাইরে, এমনকি কখনও তা শব্দ-বাক্যহীন। এরপর চব্বিশ বছর বয়সে আমি টাইপ-রাইটার কেনার সামর্থ অর্জন করি। দুই আঙ্গুলে লেখার পদ্ধতি আমার ভালো লাগলো। The Tin Drum এর প্রথম অংশ টাইপ-রাইটারে লেখা। আমার বয়স বাড়তে লাগলো। আমি শুনছি আমার বন্ধুরা কম্পুটারে লেখে। প্রথম খসড়া আমি হাতে লিখি। প্রিন্টার থেকে The Rat এর প্রথম সংস্করণ লাইনহীন বড় কাগজে বই আকারে পাই। যে কোন বই প্রকাশের আগে সাদা কাগজসহ একটা ব্লাইন্ড কপি আমি প্রকাশকের কাছ থেকে চেয়ে নেই। প্রথম বার হাতে লেখার পর বাকি দুই তিনবার টাইপ-রাইটারে লিখে লেখাটা শেষ করি। তিন বার না লিখলে আমি কোন বই শেষ করতে পারি না। সাধারণত চারবার সংস্করণের পরই তা মুক্তি পায়।

প্রতিটা খসড়া লেখার সময় কি ঘটে? প্রথম থেকে শুরু করে আবার শেষ পর্যন্ত পুনরায় লেখেন?

না। প্রথম বার আমি খুব দ্রুত লিখি। সেক্ষেত্রে আমার পছন্দ নয় এমন অনেক বিষয় থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বারে লেখার সময় লেখাটি হয় দীর্ঘ, বিস্তারিত ও চূড়ান্ত। হয়তো লেখাটি যথার্থ হলো তারপরও আমার মনে হতে থাকে যে ঠিক রসোত্তীর্ণ হলো না। আবার লিখতে শুরু করি প্রথম বারের স্বতস্ফূর্ততা নিয়ে; দ্বিতীয় বার যা কিছু প্রয়োজনীয় ছিলো তৃতীয় বার তাই পূরণ করি। কাজটা খুব সোজা নয়, বেশ কঠিন।

আপনি যখন লেখার ভেতর থাকেন তখন আপনার দৈনন্দিন কাজ কি?

যদি কিছু লিখি আর যদি তা হয় প্রথম খসড়া তবে সেক্ষেত্রে আমি প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ পৃষ্ঠা লিখি। আর এটা যদি হয় তৃতীয় থসড়া সেক্ষেত্রে ৩ পৃষ্ঠার বেশী আর আগায় না প্রতিদিন। খুব ধীরে ধীরে অগ্রসর হই।

সাধারণত সকালে দুপুরে না রাতে লিখেন?

কখনই রাতে নয়। আমি রাতে লেখা বিশ্বাস করি না কারণ তখন লেখা খুব সহজে এসে যায়। আর সকালে যখন লেখাটা পড়তে বসি তখন মনে হয় কিছু হয়নি। শুরু করার জন্য আমার দিনের আলো জরুরী। ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে আমি নাস্তা করি। নাস্তার পর লিখতে বসি। দুপুরে কফি পানের বিরতি তারপর আবার লেখা চলতে থাকে সন্ধ্যা ৭ টা অব্দি।

কিভাবে বোঝেন একটা বই এর পর আর লেখার দরকার নেই অর্থাৎ বুঝেন এখানেই লেখা শেষ করা ভালো?

একটা দীর্ঘ বই লেখা আমার কাছে একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। একটা বই লিখতে ৪/৫ বছর লেগে যায়। যখন আমার মনে হয় আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি তখন আমার মনে হয় এখানে ইতি টানা আবশ্যক।

ব্রেখট সর্বদা তার লেখা পুনঃলিখন করতো। প্রকাশিত হবার পরও তিনি ভাবতেন না যে লেখাটা শেষ হয়েছে।

আমার মনে হয় আমি কখনও এমন করবো না। জীবনের একটা বিশেষ সময়ে আমি The Tin Drum অথবা From the Dairy of a Snail লিখেছি। ঐ সময়ের ভাবনাই বই গুলোর পরমাত্মা। আমি নিশ্চিত আমি যদি এখন The Tin Drum অথবা Dogs Year অথবা From the Dairy of a Snail পুনরায় লিখি তবে লেখা গুলো ধ্বংস হয়ে যাবে।

আপনি কিভাবে ‘ফিকশন’ আর ‘নন-ফিকশন’ এর মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন?

‘ফিকশন বনাম নন-ফিকশন’ এই ধারণাটাই অর্থহীন, অপ্রয়োজনীয়। এটা বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। কারণ তারা শিল্পকে নানা ভাগে বিভক্ত করে কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু আমি আমার বইয়ের এমন শ্রেণী বিভাজন করতে প্রস্তুত নই। আমার সব সময় মনে হয়েছে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা রকম সমিতি আছে যারা নির্দিষ্ট করে দেয় এটা ফিকশন আর ওটা নন-ফিকশন।

ঠিক আছে। তবে আপনি যখন আপনার প্রবন্ধ নিবন্ধ আর ছোটগল্প বা উপন্যাস নিয়ে কাজ করেন থাকেন কখন নিশ্চয়ই আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করেন। তাহলে আপনি কিভাবে এদের পার্থক্য করে থাকেন?

হ্যাঁ, এরা পরস্পর থেকে অলাদা কারণ আমি সরাসরি ঘটনা গুলোর মুখোমুখি হই। একে আমি পরিবর্তন করতে পারি না। সাধারণত আমি আমার সাথে কোন ডায়রী রাখি না। কিন্তু From the Dairy of a Snail লেখার জন্য সব সময় আমাকে একটা ডায়রী সাথে সাথে রাখতে হয়েছে। আমার মনে হয় ১৯৬৭ সালটা খুবই গুরত্বপূর্ণ একটা সাল আমার জন্য। তখন সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক পটভূমির একটা বিশাল পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছিলো। ১৯৬৯ এর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ একটা সময় পথে পথে ক্যাম্পেইন করার সময় আমি একটা ডায়রী রেখেছিলাম নিজের সাথে। কলকাতাতে যখন গেছি তখনও একই কাজ করেছি। আর সেই ডায়রীর একদিন From the Dairy of a Snail রূপান্তরিত হলো।

একদিকে রাজনীতি আর অপর দিকে আপনার লেখালেখি। এদুটো ভিন্ন বিষয়কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করে থাকেন?

লেখক মানে নয় আত্মার গভীরতা সন্ধানী কোন বোদ্ধা। দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া পাওয়ার সাথে সে সম্পর্কযুক্ত। আর আমার ক্ষেত্রে আমি বলবো লেখা-লেখি, চিত্রকলা আর রাজনীতি এই তিনটি বিষয় কে আলাদা আলাদা শখ হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে প্রত্যেকটিরই আলাদা নিজস্ব গতি ও শক্তি আছে। আমি যে সমাজে বাস করি সে সমাজের কিছু কিছু বিষয় পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করি। আমার লেখালেখি বা ছবি সচেতন ভাবে বা অবচেতন ভাবে রাজনীতির সম্পৃক্ত। তবে আমার লেখার জন্য খুব পরিকল্পনা মাফিক আমি রাজনীতিকে টেনে আনতে প্রস্তুত নই। এমন এমন কোন গল্প লিখি না যা খুব সাদামাটা নির্দিষ্ট বাস্তব কোন রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত। লেখা লেখি থেকে রাজনীতিকে বাদ দেওয়া প্রায় অসম্ভব কারণ আমাদের যাপিত জীবনের উপরই এর একটা বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটা জীবনের আশা ভরসাকে নানা দিক থেকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইতিহাস, পদ্ধতি, গীতি-ভঙ্গিমা- এমন বিচিত্র বিষয়কে আপানি একত্রিত করেছেন।

চিত্রকলা, কবিতা, সংলাপ, উদ্ধৃতি, বক্তব্য, চিঠি- তুমি দেখবে যখন আমি পৌরাণিক ঢঙে কাজ করি কখন ভাষার যত রকম সক্রিয় রূপ আছে তাতো ব্যবহার করিই সাথে ভাষার নানা উপকরণ এর সাথে যুক্ত হয়। মনে করে দেখ আমার Cat and Mouse আর The Meeting At Telgte খুবই বিশুদ্ধ ফর্মে করা দুটি কাজ।

আপনার শব্দ আর ছবি নিয়ে একত্রিত যে কাজগুলো আছে সেগুলো অনবদ্য।

ছবি আর লেখা এদুটো আমার কাজের প্রাথমিক উপাদান, তবে একমাত্র উপাদান বলা যাবে না। আমার যখন সময় থাকে তখন আমি ভাস্কর্য তৈরি করি। আমার ক্ষেত্রে চিত্রকলা আর লেখালেখি এদুটোর মধ্যে খুব দেওয়া নেওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। কখনও কখনও এই সম্পর্ক খুব গভীর হয়ে ওঠে। তবে কখনও কখনও দুর্বলও হতে পারে। গত কয়েক বছর আমি এদের মধ্যে গভীর একটা সম্পর্ক যে আছে তা অনুভব করছি। Show Your Tongue, এমনই একটা উদাহরণ, এটা আমি কলকাতাতে শুরু করি। ড্রয়িং ছাড়া এই বইয়ের অস্তিত্ত্ব ফুটিয়ে তোলা সম্ভব ছিলো না। কলকাতায় অবিশ্বাস্য দারিদ্রতা, ভাষায় একে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। একমাত্র ড্রয়িং একে ফুটিয়ে তুলেছে নির্দ্বিধায়।

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

আরও পড়ুন :পাওলো কোয়েলহোর সাক্ষাৎকার

Facebook Comments
share on:
মৃদুল মাহবুব

মৃদুল মাহবুব

মৃদুল মাহবুব একজন কবি, গদ্যকার, চিন্তক, সমাজ দর্শক। মৃদুল মাহবুবের জন্ম ঝিনাইদহে ৯ অ‌ক্টোবর, ১৯৮৪। পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মসূত্রে থাকেন ঢাকায়। প্রকাশিত বই : কবিতা— জল‌প্রিজমের গান [কবিয়াল, কলকাতা ২০১০] কা‌ছিমের গ্রাম [চৈতন্য, ঢাকা ২০১৫] উনমানুষের ভাষা [চৈতন্য, ঢাকা ২০১৭], কবিতাকলা ভবন [ বৈভব, ঢাকা ২০২০]।