ডেভিড লিন : বিশ্বসেরা নির্মাতা

share on:
ডেভিড লিন

ডেভিড লিন এমন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা যিনি তার নিজস্ব চেতনা সমৃদ্ধ কাজ, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি ও প্রত্যাশার সমন্বয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি একহাতে চলচ্চিত্রের অর্থনৈতিক সাফল্য আর অন্য হাতে শৈল্পীক সন্তুষ্টি ঘরে তুলেছেন, যা পৃথিবীর অল্প কয়েকজন নির্মাতার ভাগ্যেই জোটে। ইমেজ ও আর্কিওটাইপের মধ্য দিয়ে লিন যে আখ্যান, বক্তব্যের সংবেদন, দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তা একেবারেই নিজস্ব। সমালোচকদের মতে, লিনের কাজের ধরণ, ভাবনা, স্বকীয়তা ও পৃথিবীকে দেখার ক্ষমতা তাকে অনন্য করে তুলেছে।

তিনি এপিকধর্মী চলচ্চিত্রের জন্য বিখ্যাত। তার এ ধরনের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই (১৯৫৭), লরেন্স অব অ্যারাবিয়া (১৯৬২) এবং ডক্টর জিভাগো (১৯৬৫)। এ ছাড়া চালর্স ডিকেন্সের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন গ্রেট এক্সপেকটেশন (১৯৪৬) এবং অলিভার টুইস্ট (১৯৪৮)। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য রোমান্টিক ছবি হলো ব্রিফ অ্যানকাউন্টার (১৯৪৫)।

তিনি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট সাইট অ্যান্ড সাউন্ড আয়োজিত এক ভোটে সর্বকালের সেরা পরিচালকের ৯ম স্থান দখল করেন। তিনি সাতবার পরিচালক হিসেবে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন। জিতেছেন দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই এবং লরেন্স অব অ্যারাবিয়া চলচ্চিত্রের জন্য। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের নির্বাচিত শীর্ষ ১০০ ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের প্রথম ৫টির মধ্যে ৩টিই তার।

ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও সম্পাদক স্যার ডেভিড লিন ১৯০৮ সালে ২৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ডেভিডের জন্ম সুরির (বর্তমানে বৃহত্তর লন্ডনের অংশ) ক্রাইডনে। তার বাবার নাম ফ্রান্সিস উইলিয়াম লি ব্লান্ট লিন এবং মা হেলেনা টাঙ্গি। ডেভিড লিঙ্গটন পার্ক স্কুলে ভর্তি হন। অমনোযোগী এ ছাত্র কয়েক বছর পর পড়া বাদ দিয়ে বাবার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট অফিসে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন। তখন তার বয়স মাত্র পনের।

এ কাজের ওপর ডেভিড খুবই বিরক্ত ছিলেন। সে সময় প্রতিদিন বিকেলের শো-তে ছবি দেখতেন। ১৯২৭ সালে তার এক চাচা পরামর্শ দেন নিজের পছন্দ মতো চাকরি খুঁজে নিতে। তখন তিনি গুমন্ট স্টুডিওতে কাজ নেন। কাজের ধরনও ছিল বিচিত্র। টি-বয় থেকে শুরু করে ক্ল্যাপার-বয়। শিগগিরই তিনি তৃতীয় সহকারী পরিচালকের পদ পান। ১৯৩০ সালে নিউজরিল সম্পাদনার কাজ শুরু করেন। এ সময় চলচ্চিত্র সম্পাদনাও করেন। এর মধ্যে ছিল ফ্রিডম অব দ্য সি’স (১৯৩৪) ও এস্কেপ মি নেভার (১৯৩৫) মতো বিখ্যাত অনেক ছবি। ১৯৬৮ সালে গিল্ড অব ব্রিটিশ ফিল্ম এডিটরস তাকে সম্মানজনক সদস্যপদ দেয়।

তার প্রথম পরিচালনা ছিল নোয়েল কাওয়ার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ইন হুইচ উই সার্ভ (১৯৪২)। পরে কাওয়ার্ডের নাটক অবলম্বনে সফল কয়েকটি ছবি বানান। এর মধ্যে আছে দিস হ্যাপি ব্রিড (১৯৪৪), ব্লিটে স্পিরিট (১৯৪৫) ও ব্রিফ অ্যানকাউন্টার (১৯৪৫)।

চালর্স ডিকেন্সের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবি দুটিতে অভিনয় করেন বিখ্যাত অভিনেতা আলেক গিনেস। এরপর দ্য পেসোনেট ফ্রেন্ডস (১৯৪৯) ছবিতে নেন ক্লদ রাইনসেকে। ছবিটি গতানুগতিক হলেও রাইনসের সঙ্গে প্রথম কাজ। পরে তারা এক সঙ্গে লরেন্স অব অ্যারাবিয়া, মাডেলেইন (১৯৫০) ও দ্য সাউন্ড ব্যারিয়ার (১৯৫১) ছবিতে কাজ করেন।

১৯৫৫ সালে আমেরিকান প্রযোজকের আংশিক বিনিয়োগে তৈরি করেন সামারটাইম। এ ছবির নায়িকা ছিলেন ক্যাথারিন হেপবার্ন। এরপর তৈরি করেন বিখ্যাত দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই ও লরেন্স অব অ্যারাবিয়া। দ্বিতীয় ছবিতে অভিনয় করেন পিটার ও’টুল। দুটি ছবিই অস্কারে অনেকগুলো পুরস্কার জিতে নেয়। পরবর্তী সময়ে তার উল্লেখযোগ্য কাজ ডক্টর জিভাগো (১৯৬৫)। বরিস পস্তারনাকের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিতে কাজ করেন ওমর শরীফ।

একই বছর দ্য গ্রেটেস্ট স্টোরি এভার টোল্ড ছবির কিছু অংশের পরিচালনা করেন। ১৯৮৪ সালে পরিচালনা করেন আরেক বিখ্যাত ছবি আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া। এটিও বেশ প্রশংসিত হয়। এর আগে রিচার্ড হিউয়ের বিখ্যাত উপন্যাস মিউনিটি অব বাউন্টি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেও শেষ করতে পারেননি।

তার শেষ পরিকল্পনা ছিল জোসেফ কনরার্ডের কাহিনী অবলম্বনে নস্ট্রমা। ছবিটির শুটিং শুরু করার আগে ১৯৯১ সালে ১৬ এপ্রিল তিনি মারা যান।

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

আরও পড়ুন :  প্যারাসাইট রিভিউ : বিশ্ব সেরা চলচ্চিত্র।

Facebook Comments Box
share on: