জহির রায়হান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নন; তিনি বেঁচে আছেন আমাদের ভাষার দাবিতে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবে এবং এই দেশের প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তরে—এক অবিনাশী আলোকবর্তিকা ও অনন্ত ফাল্গুনের পথিক হয়ে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সংকট তাই কেবল ‘ভালো সিনেমা হচ্ছে না’—এই সরল উত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীরে রয়েছে একটি দুর্বল প্রযোজনা কাঠামো, অনির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ, ভঙ্গুর বিতরণব্যবস্থা, সংকুচিত প্রদর্শন অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত বিপণন সিস্টেম, দুর্বল পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং সবচেয়ে বড় কথা—একটি সুস্থ চলচ্চিত্র-ইকোসিস্টেমের অনুপস্থিতি।
২০২৪-এর পর তাই শেখ মুজিবুর রহমানকে নতুন করে আবিষ্কার করার দরকার নেই; দরকার তাঁকে নতুন করে পড়া। আওয়ামী লীগের মুজিব নয়, বিএনপির বিরোধিতার মুজিবও নয়; সরকারি পাঠ্যবইয়ের মুজিবও নয়, সামাজিক মাধ্যমে তৈরি প্রতিকূল মুজিবও নয়। দলীয় স্মৃতি থেকে তাঁকে কিছুটা মুক্ত করে ইতিহাসের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তারেক মাসুদের আবির্ভাবকে শুধু একজন মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে দেখলে তাঁর চলচ্চিত্রচিন্তা ও শিল্পীসত্তার গভীরতা সামগ্রিকভাবে বোঝা…
ফরহাদ মজহারকে বাম, ডান, ইসলামপন্থী, মার্কসবাদী, লালনপন্থী কিংবা আওয়ামী লীগ-বিরোধী—কোনো একটি অভিধায় বন্দী করা যায় না। তিনি বরং বাংলাদেশের গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্বগুলোর এক জীবন্ত সংকলন বা অভিযাত্রা
জুলাইয়ের কেন্দ্রে ছিল কয়েকটি মৌলিক দাবি: ইনসাফ, সমতা, জবাবদিহি এবং মর্যাদা। এর বিপরীতে ছিল শোষণ, দুর্নীতি, লুটপাট, বৈষম্য, দমন-পীড়ন, গুম ও হত্যার মতো রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ফলে ৫ আগস্টের প্রকৃত মূল্যায়ন কোনো ছুটির সিদ্ধান্তে নয়, বরং এই প্রশ্নে—বাংলাদেশের ক্ষমতার কাঠামো কি সত্যিই বদলেছে?
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল কোনো সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ বিতরণের যান্ত্রিক কারখানা নয়; বরং এটি মানবসভ্যতার জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological) দিগন্ত সম্প্রসারণ করে…