সেলমা লেগারলফ : প্রথম নারী নোবেলজয়ী সাহিত্যিক

share on:
সেলমা লেগারলফ

সেলমা লেগারলফ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম নারী লেখক । শিশুসাহিত্য ‘নিলস হোলগারসন্স আন্ডারবারা রেসা জেনম সভারিজ’ বা ‘দ্য ওয়ান্ডারফুল অ্যাডভেঞ্চার্স অব নিলস’-এর জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।

বাস্তববাদিতার বিপরীতে কল্পনা ও আধ্যাত্মিকতাই সেলমা লেগারলফের সাহিত্যের প্রধান অনুষঙ্গ। তার লেখায় লোকজ গল্প, পৌরাণিক কাহিনী, তার জন্মস্থানের নানান বিষয় স্থান পেয়েছে।

সুইডিশ ঔপন্যাসিক সেলমা লেগারলফ ১৯৪০ সালের ১৬ মার্চ সুইডেনের মারাবাকায় মৃত্যুবরণ করেন। শিশুতোষ সাহিত্য নিলস হোলগারসন্স আন্ডারবারা রেসা জেনম সভারিজ (দ্য ওয়ান্ডারফুল অ্যাডভেঞ্চার্স অব নিল) তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। ১৯০৯ সালে মহিলা লেখক হিসেবে তিনিই প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল কমিটি তার লেখা নিয়ে বলেন – অনন্য আদর্শবাদ, প্রাণবন্ত কল্পণা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি তার লেখাকে বিশিষ্ট্যতা দান করেছে।

১৮৫৮ সালের ২০ নভেম্বর তার জন্ম মারাবাকায়। তিসেলমা লেগারলফ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম নারী লেখক । বাস্তববাদিতার বিপরীতে কল্পনা ও আধ্যাত্মিকতাই সেলমা লেগারলফের সাহিত্যের প্রধান অনুষঙ্গ।নি কোমড়ে আঘাত নিয়ে জম্মগ্রহণ করেন। কম বয়সে অসুস্থতায় তার দু’পা খোঁড়া হয়ে যায়। কিন্তু অসাধারণ মানসিক শক্তির কারণে পরবর্তীতে তা কাটিয়ে ওঠেন। ছোটবেলা থেকে তিনি ছিলেন বয়সের তুলনায় ভারিক্কি ও শান্ত স্বভাবের। বই পড়ার প্রচণ্ড নেশা ছিল। ১৮৮৪ সালে বাবার অসুস্থতার কারণে মারাবাকা এস্টেট বিক্রি করতে বাধ্য হন। যা তার জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মারাবাকার স্মৃতি তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

১৮৮২ খেকে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি স্টকহোমে পড়াশোনা করেন। ১৮৮৫-১৮৯৫ সাল পর্যন্ত একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। এ সময় তিনি গল্প বলার কৌশলের ওপর জোর দেন। ১৮৯৫ সালে লেখালেখিতে মনোযোগ দেয়ার উদ্দেশে শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। স্টকহোমের রয়েল উইমেনস সুপিরিয়র ট্রেনিং একাডেমিতে পড়াকালে সুইডিশ সাহিত্যে প্রচলিত বাস্তববাদের বিরোধিতা করেন।

এ সময় তার প্রথম উপন্যাস গস্তা বেরলিংম সাগা লেখা শুরু করেন। এর প্রথম অধ্যায় একটি সাহিত্য প্রতিযোগিতায় জমা দিয়ে বইটি প্রকাশের পুরস্কার জিতে যান। এ ছাড়া লেখালেখির জন্য বিখ্যাত সুইডিশ নারীবাদী ফ্রেদরিকা লিমনেল থেকে আর্থিক সাহায্য পান। তিনি তখনকার দিনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইউরোপিয়ান লেখকের সান্নিধ্য পান। ১৯০০ সাল থেকে তিনি ইতালি ফিলিস্তিনসহ প্রাচ্যের অনেক জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। এ সব অভিজ্ঞতা তার লেখনিতে ফুটে উঠেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে তিনি তার নোবেল পুরস্কার এবং গোল্ড মেডেল ফিনল্যান্ডকে দিয়ে দেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আর্থিক তহবিল সংগ্রহ করার জন্য। পরে ফিনিশ সরকার অন্যভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে তার মেডেল তাকে ফেরত দেয়। অন্যান্য পুরস্কারসহ তিনি বেশ ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানজনক ডিগ্রি লাভ করেন।

তার বেশির ভাগ বই ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইনভিজিভল লিঙ্কস, দ্য মিরাকলস অব অ্যান্টিক্রাইস্ট, জেরুসালেম, দ্য ট্রেজার, দাই সোল সেল বেয়ার উইটনেস, দ্য ফ্যান্টম ক্যারিজ, দ্য চেঞ্চলিং, দ্য আউটকাস্ট, মারাবাকা: দ্য স্টোরি অব এ মেনর, মেমরি অব মাই চাইল্ডহুড: ফার্দার ইয়ার্স এট মারবাকা এবং হার্ভেস্ট। তার ওয়ান্ডারফুল অ্যাডভেঞ্চার অর নিলস বাংলায় অনুবাদ করেছেন বুলবুল সারওয়ার।

এ ছাড়া তার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। তার উপন্যাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজ।

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

আরও পড়ুন : জর্জ অরওয়েল : সাহিত্য ও জীবন

 

Facebook Comments