এখনও রোবসন : গৌতম ঘোষ

share on:
পল রোবসন

পঞ্চাশের মার্চে রোবসন হলেন প্রথম আমেরিকান যাঁর অনুষ্ঠান রেডিও টেলিভিশনে ব্যান্ড।  তার কয়েক মাস পর স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য- ‘The Department considers that Robeson’s travel abroad at this time would be contrary to best interests of United States.’

বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল পলের পাসপোর্ট। ম্যাকার্থির গভর্নমেন্টে পল তখন ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বলে নির্দিষ্ট। ‘আমি কমিউনিস্ট নই’ বলে মুচলেকা দিলে পাসপোর্ট ফেরত দেয়া যেতে পারে এরকমই বলা হয়েছিল স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে। কিন্তু পল কিছুতেই এফিডেবিটে সই দিতে রাজি হননি। পরে সুপ্রিম কোর্ট আর কোনও আবেদনই শুনতে চাননি, রিইনস্টেট করতে বলা হয়েছিল, যেহেতু তাদের ভাষায় ‘হি ইজ নট সাইনড ইন দ্য নন-কমিউনিস্ট এফিডেবিট’।

আমেরিকান গভর্নমেন্টের এই রাগের যথেষ্ট কারণও ছিল। এই আমেরিকাই তাঁকে গ্রেটেস্ট সিংগার ও আক্টর হিসেবে খ্যাতির চূড়ায় তুলেছিল আবার সেই কিনা সোভিয়েতের সঙ্গে বন্ধুত্ব গেড়ে বসে? রোবসন ঠাণ্ডা লড়াই অবসানের কথা বহুদিন ধরে বলে আসছিলেন। দুই দেশ হিংসা বিদ্বেষ ভুলে যাক এবং মৈত্রীর বন্ধন গড়ে তুলুক, তাতে সবার মঙ্গল। রোবসনের এই থিয়োরি তৎকালিন পৃথিবীর সুস্থ মনস্ক শান্তিপ্রিয় মানুষেরা মানতে পারতেন কিন্তু আমেরিকার পক্ষে তা মানা ছিল অসম্ভব এবং অবাস্তব কল্পনা। ৪৯ সালে পোলান্ডের ওয়েরশর কারখানায় গান গাওয়া, অসলোতে নরওয়েজিয়ান-রাশিয়ান সোসাইটিতে পর পর পাঁচবার বক্তৃতা দেওয়া, খোদ মস্কোতে আমেরিকান ও রাশিয়ার ইহুদিদের যোগসূত্র গড়ে তোলা-এসবে তো আমেরিকা চটে ছিলই। এর পর ঘৃতাহুতি পড়ল কমিউনিস্ট মুখপাত্র ‘কমসোমল্স্কায়া প্রাভদা’ তে ‘two world’ প্রবন্ধটি লিখে।

এও এক লড়াই। আমেরিকার জীবনদর্শন আর এক সোসালিস্ট দেশের জীবন দর্শন দুটি স্বভাবতই ভিন্ন। সে সব দেশ রোবসনকে আকৃষ্ট করেছিল নিঃসন্দেহে। নিজেই পরে তা বক্তৃতায় বলে গেছেন:

Visit…lands of Socialism. You Will see a new kind of human being. One shaped in conditions where deep concern for others is basic, where three is a sense of real togetherness, joined with deep concern for the highest development of individual excellence and initiative.  (Paul Robeson Speaks, P464).

দুদেশের মধ্যে পরস্পর সন্দেহপরায়নতা কমিয়ে শান্তির এক বাতাবরণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন রোবসন। পলের স্বপ্ন, এ সমাজে জনগণই তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, দারিদ্র এবং নিরক্ষতা থাকবে না। সুন্দরভাবে বাঁচার নতুন পথ খুজে নেবেন তাঁরাই। আমেরিকান ক্যাপিটালিজমে এটা দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয় কারণ কথাগুলো আদপে বামঘেঁষা। পলের মতে সারা পৃথিবীর গানের ভাষা এক সে গান যদি প্রতিবাদী হয়। সারা পৃথিবীতে গান গেয়ে উনি দেখেছেন গানের ভাষা সুর কখনই কারও কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বরং তাঁর নিগ্রো সংগুলো সবচেয়ে বেশি বাইরের দেশগুলোই আপন করে নিয়েছে।

আবার আমেরিকান লোকসঙ্গীতও বুদাপেস্ট, প্রাগ, টিফলিস, মস্কো, অসলো কিংবা স্প্যানিম ফ্রন্টে দারুণ সমাদৃত হয়েছিল। এ গান শুনে সেসব দেশের মানুষের কখনও কান্না এসেছে, ককনও আনন্দের উচ্ছ্বাস। যেখানেই ভেদ-বিভেদের ষড়যন্ত্র, অধিকার কেড়ে নেওয়ার নিপুন ছকের খেলা সেখানেই রোবসন যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে কারখানার দরজা হোক, কি প্রান্তর হোক, কি রাস্তার পেভমেন্ট হোক। সে মানুষজন চেনা হোক, কি অচেনা হোক। কারণ স্পেন রাশিয়া কি আমেরিকা তাঁর কাছে আলাদা দেশ নয়। রোবসন ভাবতেন প্রতিবাদের ভাষা সব দেশে এক।

…whether people weave, build, pick cotton or dig in the mine, they understand each other in the common language of work, suffering and protest’. ( The whole World in His hands, p 205).

রোবসনে লড়াই কোনও একটি নির্দিষ্ট স্থানে নয় বরং সর্বত্র, প্রথমত সিভিল রাইটস অধিকারের লড়াই। কালোমানুষের স্বাধীকার, তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতির মর্যাদা- সাদার সঙ্গে কালো মিশিয়ে আমেরিকানরা যে মোজাইক কালচার গড়ে তুলেছিলেন তা তো নয়। কালোরা যেন পৃথক। চাই আলাদা মর্যাদা। পরে এই আমেরিকানরাই কজন বিষয়টি সরল করার জন্য তাদের বলতে শুরু করেছিলেন হোয়াইট আমেরিকান উইদ ব্ল্যাক স্কিন বলে। সাদা এবং কালো এই চিরাচরিত দ্বন্দ। সাদারা অবশ্যম্ভাবী রূপে সর্বদা প্রভু। অ্যাংলো স্যাক্সনরা পৃথিবীতে রাজত্ব করবে, অন্য রঙের লোকেরা দাসমাত্র। শুধু রঙের তফাতে অনেক কিছু হতে পারে।

একটা পুরো জাতকে শয়ে শয়ে বছর ধরে দাস করে রাখা হল। অথচ বর্ণবৈষ্যমের ভেদাভেদের জন্য একটা নির্দিষ্ট জাত- রেসিস্টরা এখনও সারা পৃথিবীতে বেশ বুক ফুলিয়েই ঘুরে বেড়ায়। তৎকালিন আমেরিকায় যখন নিগ্রো সিভিল রাইটস এর জন্য প্রায় যুদ্ধ দানা বেঁধে উঠেছে তখন মাল্টি-কালচারাইজমের ধুয়ো তুলে যতই কালচারের মেল্টিং পট বানানোর প্রক্রিয়া চলুক না কেন রোবসনরা সে দিকে সচেতন ছিলেন। আমি কালো, আমার রক্ত আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, অবশ্যই স্বতন্ত্র একজন, আমি আফ্রিকান-আমেরিকান, এথনিক রাইটস নির্দিষ্ট করো এখানে রাইটস-এর ব্যাপারে ‘তোমরা’ এবং ‘ আমরা’ চলবে না। শুধু একমাত্র কথা- আমরা সকলে।

শিল্পীদের কণ্ঠই সম্ভবত সবচেয়ে আগে পৌছায়। কিন্তু শিল্পীর দায়িত্ব কি? রোবসনও আদতে একজন শিল্পী, সারা জীবন একজন দুরন্ত গায়ক কি ফিল্ম ও নাটকের একজন উঁচু সারির অভিনেতা হয়েই থাকতে পারতেন। কারণ জেরিকো, সং অব ফ্রিডম এম্পারর জোনস, ব্ল্যাকবয় ট্যাবু, শোবোট, স্যান্ডার্স অব দ্য রিবার – এ অভিনয় তাকে আমেরিকান ন্যাশনাল হিরো করে তুলেছিল। শো বোট-এ ‘ওল্ড ম্যান রিভার’ নিজের গলায় গাওয়া গানটি যখন আসতো তখন দর্শকদের কী প্রতিক্রিয়া হত তা অনুমান করা যায় লাইভ রেকর্ডিং-এর ডিস্ক শুনলে। রোবসনের ওথেলো ‘ওথেলো’ নাটকটারই সম্পদ বোধ হয়। এত ভাল ওথেলো আজ পর্যন্ত সম্ভবত হয় নি। কেনই বা হবে না! শুধু এই অভিনয় ডায়লগ বলার জন্য রোবসন চারটে বিদেশি ভাষা অনুশীলন করেছিলেন।

ডেসডিমোনার সঙ্গে অন্তরঙ্গতার ভাষা ফোটাতে- ফরাসি শিখেছিলেন মৃদু উচ্চারণের জন্য, জার্মান ভাষার রুক্ষতার ভাব জঙ্গি বিষয়ের জন্য, রাশিয়ানও কারণ এ ভাষায় কথা বললে গলার রেঞ্জ অনেক বিস্তৃত হয়। ইদ্দিশ ভাষা হাস্য আর করুণ রসের জন্য। রোবসনের উচ্চারণ ভঙ্গি, গলার উঁচু নীচু স্কেলের তারতম্যের বিষয়টা ফোটাবার জন্য এতগুলো ভাষা সমন্ধে জেনেছিলেন। যদিও ইংরেজিটা শেক্সপিরিয়ান ইংলিশই হত। এজন্য আবার তিনি প্রাক্ এলিজাবেথিয় ভাষার শৈলী (যাতে চসার লিখতেন) সে সবও রপ্ত করেছিলেন।

রোবসন কুড়িটি ভাষা জানতেন। তার মধ্যে আফ্রিকার চার-পাঁচটা। বহুকাল বিচ্ছিন্ন পিতৃপুরুষের নাইজিরীয় আইবো ভাষা এবং তাদের সংস্কৃতি যে আধুনিক আমেরিকান কালচারের চেয়ে অনেক ধ্রুপদী তাও প্রমান করার চেষ্টা করেছিলেন টয়েনবি। তাঁর ‘ আ স্টাডি অব হিস্টরি’তে স্পস্ট বলেছিলেন,

A distinguished Negro-American Singer…came to realize that hte primitive culture of his African ancestors…was spritually akin to all the non-western world itself…. Paul Robeson was putting his finger on difference between an integrated and disintegrated culture.

এ যায়গা থেকেই রোবসনের কাছে ডেসডিমোনাকে হত্যার ব্যাখ্যা অন্য। ওথেলো কি এক বন্য প্রেম থেকে ডেসডিমোনাকে হত্যা করল? না। ওথেলো এসেছেন এমন এক সংস্কৃতি থেকে যা ভেনিসের থেকেও উন্নত ছিল। সেই আফ্রিকা থেকে এসেছিল সে, অনুভব করেছিল তার সম্মানকে প্রবঞ্চনা করা হয়েছিল, প্রবঞ্চনা করা হয়েছিল তার মানবিক সত্তাকে। রোবসনের ধারণায়,

…Othelo in the venice of the time was in practically the same position as a coloured man in america today ( Here I Stand, P44).

অন্যভাবে রোবসন তাঁর অনেক গানে বাখ মোৎজার্ট মুসোরজস্কিদের মিলিয়েছেন, অবশ্য যে গানগুলো লোকগান আশ্রিত সেগুলো থেকেই। মোৎজার্টের কোনও রচনাতে আফ্রিকার কোন প্রাচীন সুরের সূত্র খুঁজে পেয়েছিলেন।  পর রোবসনের ছেলের লেখায় এ সম্পর্কে সুন্দর বর্ণনা আছে। রোবসন ‘জেরিকো’ ফিল্মের শ্যুটিং এ কায়রো গেলে পিরামিডের ভিতরে ফারাওদের সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন একবার। জ্যামিতিক নকশায় অদ্ভূদ সে স্থান।

গৌতম ঘোষ
লেখক : গৌতম ঘোষ, ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা।

একবার শব্দ করলে বহুক্ষণ অনুরণিত হতে থাকে সে শব্দ। পল পরস্পর স্বরগুলি লাগাতে লাগাতে এক শুদ্ধ অর্গানের কর্ড বানিয়ে ফেললেন। পরক্ষণেই মোৎজার্টের অপেরা ম্যাজিক ফ্লুটের বিখ্যাত গান ‘ ও আইসিস ও অসিরিস’ গেয়ে উঠলেন। সে গানে গমগম করে উঠল চতুর্দিক। গানটার চেয়েও বড় এখানে স্বাজাত্যের প্রশ্ন। এ এজিপ্টেই একদিন আফ্রিকান রাজারাণিদের রাজত্ব ছিল। মোৎজার্ট- অস্ট্রিয়ান রচনাকার আসেন এখানে অনুঘটক হিসেবে।

ছ ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা একজন কৃষ্ণমানব। দেহে একবিন্দু মেদ নেই। চওড়া হাতের পাঞ্জা মৃত্যুর দিন পর্যন্ত অদম্য। রোবসনের এই স্পিরিট এলো কোথা থেকে? রোবসনের বাল্যকাল পর্যন্ত যখন কৃষ্ণাঙ্গরা পুরো দাস না হলেও তাদের প্রতি সেরকম ব্যবহার চলছে এবং নিয়ম করে মারধরও চলছে তাদের উপর। রোবসনের বাবা চার্চের লোক হলেও  পরবর্তীকালে তিনিও সেই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পালিয়েছিলেন। রানঅ্যাওয়ে স্লেভ বলে হুলিয়া বেরিয়েছির তার নামে।  দাসত্বের লোহায় ছেঁড়া একজন লোক, তাকে নতুন করে আর কে বাঁধতে যাবে! তখন তার মনোবল শক্তি সাহসের কাছে পাল্লা দেওয়ার মতো কে আছে। এজন্যই রোবসন ক্রমশ সেরা আমেরিকান।

আঙুল তুলে দেখানো একজন মানুষ- কাদের তোমরা বেঁধে রেখেছিলে। রাটজার্স কলেজে অভিনয়ে এক একজন কালো, ফুটবল টিমেও একা, ক্রমে ক্রমে অল আমেরিকান দলে সেরা অ্যাথলিট। ল কলেজ- সেখানেও তাই। রোবসন অনন্য স্বাস্থ্যের একজন কৃষ্ণ, যার ন্যূড ছবির সিরিজ ছাপা হয়েছিল প্রথম। সাদা মেয়েদের কাছে সে ছবির দাম এতই উঠেছিল যে তা পাওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি চলত। রোবসন এতাগুলো ভাষা শিখেছিলেন শুধুমাত্র শখের জন্য নয়। নিজস্ব আফ্রিকান ভাষার স্থান ও মর্যাদা কোথায় তা প্রমাণ করার জন্য। ‘জো হিল বা ওল্ড ম্যান রিভার’ গানগুলো এই কালো মানুষদের কথাই বলে। অসাধারণ সেই গান। অস্কার হ্যামারস্টেইন (২) এর কবিতা নিজের মতো বদলে নিয়েছিলেন রোবসন। মূল কথাটি ছিলো … Niggers all work on the missisipi  রোবসন করেছিলেন colored folks work on the missisipi. colored folks work While the white folks play.

পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার জন্য ৫২-৫৩ সালে কানাডা ইউএস বর্ডারের মাত্র এক ইঞ্চি দূরে একটি ফ্ল্যাট বেড ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে চল্লিশ হাজার লোককে নিয়ে গান গেয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যদিও ১৯৪৯-এ পিকস্কিল শহর যা করেছিল পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার এ ঘটনা তো তার কাছে কিছুই নয়। সাদা আমেরিকানরা বীভৎস দাঙ্গা লাগিয়ে রোবসনের কতো রেকর্ড আর বই জ্বালিয়েছিল তার ইয়ত্তা নেই। সংবাদে বলা হতো এটি অ্যান্টি কম্যুনিস্ট রায়ট। শুধু গান বন্ধ করতে যে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল তার এক একটার ওজন কমপক্ষ দু-তিন কিলো। গাড়ি থামিয়ে ফেন্ডার  কিংবা বাফারে কাগুজে লেখা সেটে দেওয়া হতো ‘ওয়েক আপ আমেরিকা, পিকস্কিল ডিড’।

পিকস্কিল কি করে দেখিয়েছিল তা আর বলে কাজ নেই। কিন্তু রোবসনের পাশে সেদিন বহু সাদা আমেরিকান দাঁড়িয়েছিলেন। আমাদের দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই। দেশে শিল্পীরা বড়জোর বই লিখতে পারেন, অভিমানে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন, কিন্তু একজন প্রকৃত সংগ্রামী কি তা করতে পারেন? শৈশব থেকে যে জেনে এসেছেন ‘Everywhere is the battlefield, no rear shelter!’

চল্লিশ-পঞ্চাশ সালের মধ্যবর্তী সময়ে রোবসন পৃথিবীর দশজন সেরা অর্থবান শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন। আজ থেকে অর্ধশতকেরও আগে তার গান থেকে আয় ছিলো এক লক্ষ ডলার। আজকের মূল্যে তা কত দাঁড়ায় তা কে জানে! এবং কয়েক বছর আগেও দেখেছি বছরে এক লক্ষ ডলার উপার্জন করতে একজন আমেরিকানকে কিভাবে পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু রোবসন ব্রাত্য হতে মাত্র ছ হাজারে নেমে এসেছিল তাঁর উপার্জন। এফবিআই তার গান বন্ধে এমন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলো যা বলবার নয়। নিয়ম করে অনুষ্ঠান আয়োজকদের ভয় দেখানো, সহযোগিদের গাড়ির নাম্বার প্লেটের ছবি তুলে রেখে পরবর্তিতে তাদের হেনস্থা করা, সাংবাদিকদের তাড়ানো, প্রেস ফটোগ্রাফারদের ছবি নষ্ট করা, গভর্নমেন্টের যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার ব্যপারে তদ্বির করা, আন অ্যামেরিকার অ্যাক্টিভিস্ট বলে নামকরণ করা, এসব করে রোবসনকে পাকাপাকি পথে বসাবার বন্দোবস্ত করেছিল।

রোবসনকে সাংবাদিকরা প্রশ্নও করেছিলো- তুমি রাশিয়ায় গিয়ে থাকছো না কেনো? রোবসন বলেছিলেন, ‘কারণ আমার বাবা একজন দাস ছিলেন  এবং আমার লোকেরা এই দেশ গড়তে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। আমি এখানে থাকতে চাই কারণ এ ব্যপারে আমি তোমাদের মতোই ভূমিকা নিতে চাই এবং কোনওভাবে ফ্যাসিস্ত মনোভাবের লোকেরা আমাকে তাড়াতে পারবে না।’

রোবসন একজন শিল্পীসংগ্রামী হয়ে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করেছেন কিন্তু আমেরিকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করেননি। উনিশশো ছিয়াত্তর সালে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। আমেরিকার একজন ব্রাত্য ‘গ্রেটেস্ট স্টার’ ঠিক এই সময়টায় কী বলতেন? যখন রাজনীতির ওলোটপালটে ‘রিলেশানে’র অনেক কিছুই বদলে গেছে সারা পৃথিবীতে!

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

আরও পড়ুন : পাবলো পিকাসো

Facebook Comments
গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষ. ফটো সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু। তারপর সিনেমা দুনিয়ায় পা। ১৯৭৮ সালে তৈরি করেছিলেন প্রথম কাহিনিচিত্র মা ভূমি। পার, অন্তর্জলী যাত্রা ,পদ্মা নদীর মাঝি, মনের মানুষসহ বহু প্রশংসিত সিনেমার নির্মাতা। নির্মাতা হিসেবে বহুবার পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা।