ও হেনরি

share on:
ও হেনরি

ও হেনরি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। রসিকতা, বিশেষ ধরনের চরিত্রায়ন ও গল্পের শেষে চমক তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি আমেরিকান জীবনযাপন নিয়ে ছয় শতাধিক গল্প লিখেছেন। এক সময় কলেজ পাঠ্য হওয়ায় তার লেখা ‘দ্য গিফট অব ম্যাজাই’ গল্পটি বাংলাদেশে খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয়।

তার মূল নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার। ১৮৬২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনসবরোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম অ্যালগারনন সিডনি পোর্টার, পেশায় চিকিৎসক। তিনবছর বয়সে মাকে হারিয়ে হেনরি বড় হন দাদী ও ফুফুর কাছে। পনের বছর বয়সে স্কুল ছাড়েন। এরপর ব্যাংকের কেরানিসহ নানান ধরনের চাকরি করেন। ব্যাংকে চাকরিকালে সাপ্তাহিক দ্য রোলিং স্টোনে কাজ করতেন। সেখানে তার ছোটগল্প ছাপা হয়। এ ছাড়া হিউস্টন পোস্টে কাজ করেন।

১৮৯৬ সালে অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত হলে পালিয়ে নিউ অরলিয়ন্স ও পরে হন্ডুরাসে চলে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে পুলিশের কাছে ধরা দেন। বিচারে তার পাঁচ বছরের জেল হয়। ১৮৯৮ সালে ওহাইও রাজ্যের কলম্বাসের সংশোধনাগারে পাঠান হয়। সেখানে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট হিসেবে জেল কারাগারে রাতে কাজ করতেন।

বিভিন্ন ছদ্মনামে জেলে থাকাকালে চৌদ্দটি গল্প লিখেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ও হেনরি নামটি। অলিভার হেনরি নামটি প্রথম ব্যবহার করেন ১৮৯৯ সালের ম্যাকক্লারেস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘হুইসলিং ডিকস ক্রিস্টমাস স্টকিং’ গল্পে। পরে অলিভার হেনরি থেকে হন ও হেনরি। নিউ অরলিয়ন্সের এক বন্ধু গল্পটি পত্রিকায় পাঠায়। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ধারণাই ছিল না লেখক জেলে বন্দি আসামি। ভালো আচরণের কারণে সাজার তিনবছর পূর্ণ হলে ১৯০১ সালের ২৪ জুলাই মুক্তি পান। এরপর পেনসিলভানিয়ায় গিয়ে মেয়ে মার্গারেটের সঙ্গে মিলিত হন। মার্গারেটকে কখনও বলা হয়নি তার বাবা জেলে ছিলেন। তিনি জানতেন ব্যবসার কারণে তিনি বাইরে আছেন।

১৯০২ সালে চলে আসেন নিউইয়র্কে। সেখানকার নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ও অন্যান্য প্রকাশকদের জন্য সপ্তাহে একটা করে গল্প লিখতে হতো। তার প্রথম গল্প সংকলনের নাম ‘ক্যাবাজেস অ্যান্ড কিংস’ (১৯০৪)। নিউইয়র্কে থাকাকালে ৩৮১টির মতো গল্প লিখেন। জীবনের শেষদিকে অতিরিক্ত মদপানের কারণে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন।

তার দ্বিতীয় সংকলনটির নাম ‘দ্য ফোর মিলিয়ন’ (১৯০৬)। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিখ্যাত ‘দ্য গিফট অব ম্যাজাই’, ‘দ্য স্কাইলাইট রুম’ ও ‘দ্য গ্রিন ডোর’। তার আরও দুটি বিখ্যাত গল্প হলো ‘দ্য রানসাম অব রেড চিফ’ ও ‘দ্য ফার্নিসড রুম’। পাঠকপ্রিয় অন্যান্য সংকলনের মধ্যে রয়েছে ‘রোডস টু ডেস্টিনি’ ও ‘সিক্সেস অ্যান্ড সেভেনস’। গল্পগুলো তার সমকালকেই ধারণ করে। অধিকাংশ গল্পের চরিত্র সমাজের নিচু তলার মানুষ। তাদের নিঃসঙ্গতার এ সব গল্পে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

জীবদ্দশায় তিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেন, হয়ে উঠেন প্রভাবশালী লেখক। তার গল্প বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় দিক হলো তার গল্প বিভিন্ন দেশে পাঠ্যক্রমে স্থান পেয়েছে। নির্মিত হয় চলচ্চিত্র। তার জীবদ্দশায় মুক্তি পায় তিনটি নির্বাক ছবি- ‘দ্য স্যাক্রিসাইস’ (১৯০৯), ‘ট্রাইং টু গেট অ্যারেস্টেড’ (১৯০৯) ও ‘হিজ ডিউটি’ (১৯০৯)। তার লেখা অবলম্বনে নির্মিত আরও দুটি বিখ্যাত ছবি হলো ‘দ্য অ্যারিজোনা কিড’ (১৯৩১) ও ‘দ্য কিসকো কিড’ (১৯৩১)। ১৯৫২ সালে পাঁচটি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ও হেনরিস ফুল হাউস’। এতে স্থান পেয়েছে ‘দ্য কপ অ্যান্ড দ্য অ্যান্থেম’, ‘দ্য ক্লারিওন কল’, ‘দ্য লাস্ট লিফ’, ‘দ্য রানসাম অব রেড চিফ’ ও ‘দ্য গিফট অব ম্যাজাই’।

ছোটগল্পকার ও হেনরি ১৯১০ সালের ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মারা যান।

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

Facebook Comments