বব ডিলান

share on:
বব ডিলান

বব ডিলান পাঁচ দশক ধরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ধারার সঙ্গীতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। বব ডিলান প্রথম গীতিকার হিসাবে ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন।

বিশ্ব সঙ্গীতে তাঁর অসামান্য অবদানকে বিচার করেই সুইডিশ অ্যাকাডেমির তরফে তাঁর নাম নোবেল সাহিত্যের জন্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

গায়ক, গীতিকার, লেখক, সুরকার, কবি, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা ও ডিস্ক জকি বব ডিলান ১৯৪১ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডুলুথে জন্মগ্রহণ করেন।

তার মূল নাম রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যান ও ইহুদী নাম শাবতাই জিসেল বেন আভ্রাহাম। বড় হন ডুলুথ ও হিবিং এলাকায় লেক সুপিরিয়রের পার্শ্ববর্তী মেসাবি আয়রন রেঞ্জ এলাকায়। ১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটাতে ভর্তি হন। এ সময় মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন। অ্যাকুস্টিক গিটার ব্যবহৃত হয়- এমন গানে তার ঝোঁক ছিল বেশি। ইউনিভার্সিটির মার্ভিন কার্লিন্সের কাছে গিটার প্রশিক্ষণ নেন। ১০ ও’ক্লক স্কলার নামের একটি কফি হাউজে গান গাইতে শুরু করেন। স্থানীয় ডিঙ্কিটাউন ফোক সংগীত ঘরানাও সক্রিয় ছিলেন। এ সময় ডিলন থমাসের কবিতার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। এরপর বব ডিলন নামটি গ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে বেশি শুনতেন ব্লুজ ও কান্ট্রি সং। পরবর্তীকালে রক অ্যান্ড রোলের দিকে ঝুঁকে পড়েন। হাই স্কুলে পড়াকালে কয়েকটি ব্যান্ড গঠন করেন। প্রথম ব্যান্ড ‘দ্য শ্যাডো ব্লাস্টার্স’ বেশিদিন টেকেনি। পরে করেন ‘দ্য গোল্ডেন কর্ডস’। এটাও বেশিদিন ঠেকেনি।

তার শ্রেষ্ঠ কাজের মধ্যে অনেকগুলো ১৯৬০ এর দশকে রচিত। এ সময়কালের আমেরিকান অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। তেমন দুটি গান হলো- ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড ও দ্য টাইমস দে আর এ চ্যাঞ্জিং। এগুলো যুদ্ধবিরোধী সংগীত হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়, ১৯৫৫-১৯৬৮ সালের আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার গানে উঠে আসে রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্য। গানের মাধ্যমে প্রচলিত কাঠামোর বিরোধিতা করেন। তার গানে বিচিত্র সব ফর্ম উঠে এসেছে। এতে আমেরিকান লোকগীতি ও কান্ট্রি/ব্লুজ থেকে রক অ্যান্ড রোল, ইংরেজ, স্কটিশ, আইরিশ লোকগীতি, এমনকি জ্যাজ সঙ্গীত, সুইং, ব্রডওয়ে, হার্ডরক এবং গসপেলও আছে। বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে সাধারণত গিটার, কিবোর্ড ও হারমোনিকা বাজিয়ে গান করেন। তিনি বব ডিলন ছাড়াও আরও কিছু নামে পারিচিত। এর মধ্যে রয়েছে- এলস্টন গান, ব্লাইন্ড বয় গ্রান্ট, লাকি উইলবারি, বু উইলবারি, এলমার জনসন, সার্গেই পেত্রভ, জ্যাক ফ্রস্ট ও জ্যাক ফেট।

১৯৮০ এর দশক থেকে তিনি অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে বিভিন্ন কনসার্টে কাজ করেন। তার ভাষায় এটি ছিল ‘নেভার এন্ডিং ট্যুর’। এ সময় যেসব ব্যান্ড ও শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দ্য ব্যান্ড, টম পেটি, জোয়ান বয়েজ, জর্জ হ্যারিসন, দ্য গ্রেটফুল ডেড, জনি ক্যাশ, উইলি নেলসন, পল সিমন, এরিক ক্ল্যাপটন, প্যাটি স্মিথ, ইউ২, দ্য রোলিং স্টোনস, জনি মিচেল, জ্যাক হোয়াইট, মার্লে হ্যাগার্ড, নেইল ইয়ং, ভ্যান মরিসন, রিঙ্গো স্টার ও স্টিভি নিকস। গায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও গীতিকার হিসেবে তার অবদানকে বেশি স্বীকার করা হয়।

তার রয়েছে ৩৫টি স্টুডিও অ্যালবাম, ৫৮টি সিঙ্গেলস, ১১ লাইভ অ্যালবাম, দ্য বুটলেগ সিরিজের ১০টি অ্যালবাম ও ৩০টি মিশ্র অ্যালবাম। এ ছাড়া তিনটি হোম ভিডিও, একটি বায়োগ্রাফি ও একটি ফিল্মোগ্রাফি। তার প্রথম দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করে অ্যাসলুম রেকর্ডস। এ দুটি অ্যালবামের নতুন সংস্করণসহ বাকি সকল অ্যালবাম প্রকাশ করে কলম্বিয়া রেকর্ডস। বিশ্বব্যাপী ডিলনের ১০ কোটিরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে। তাকে ধরা হয় সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যালবাম বিক্রিত শিল্পীদের একজন। তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে- বব ডিলন (১৯৬২), দ্য টাইমস দে আর এ-চেঞ্জিং (১৯৬৪), ন্যাশভিল স্কাইলাইন (১৯৬৯), সেলফ প্রোট্টেট (১৯৭০), প্যাট গ্যারেট অ্যান্ড বিলি দ্য কিড (১৯৭৩), ডিজায়ার (১৯৭৬), ডাউন ইন দ্য গ্রোভ (১৯৮৮), গুড অ্যাস আই বিন টু ইউ (১৯৯২), টাইম আউট অব মাইন্ড (১৯৯৭), লাভ অ্যান্ড থেফ্ট (২০০১), টুগেদার খ্রু লাইফ (২০০৯), ক্রিসমাস ইন দ্য হার্ট (২০০৯) ও টেম্পেস্ট (২০১২)। অদ্যাবধি তাঁর বিক্রিত রেকর্ডের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি

তার কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ক্রনিকলস (আত্মজীবনী), বব ডিলন : দ্য এসেন্সশিয়াল ইন্টারভিউ এবং দ্য বব ডিলন স্ক্যাপবুক (১৯৫৬-১৯৬৬)। তার আঁকা ছবি নিয়ে অনেকগুলো প্রদর্শনীও হয়েছে।

তিনি ১১টি গ্রামি এ্যাডওয়ার্ড, ১টি গোল্ডেন গ্লোব ও ১টি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার জিতেছেন। এ ছাড়া তার নাম রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম, ন্যাশভিল সংরাইটার্স হল অব ফেম, ও সংরাইটার্স হল অব ফেমে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তার নাম রয়েছে। ২০০৪ সালে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন প্রকাশিত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ১০০ গায়ক তালিকায় দ্য বিটলসের পর দ্বিতীয় অবস্থান দখল করেন। ১৯৯০ সালে ফরাসি সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং কমান্ডার দেস আর্টস এট দেস লেটার্স উপাধিতে ভূষিত করেন। ২০০০ সালে রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব মিউজিক পোলার মিউজিক পুরস্কার দেয় এবং ২০০৭ সালে সংস্কৃতিতে প্রিন্স অব অস্ট্রিয়াস পুরস্কার দেওয়া হয়।

ফেসবুকে সংস্কৃতি ডটকমের পেইজে লাইক দিন এখানে ক্লিক করে।

Facebook Comments