আব্বাস কিয়ারোস্তামি : নিজস্ব বয়ানে চলচ্চিত্রিক বিচার

share on:

বিশ্ববিখ্যাত ইরানী চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগ্রাহক, আলোকচিত্রশিল্পী আব্বাস কিয়ারোস্তামি ১৯৪০ সালের ২২ জুন ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬ সালের ৪ জুলাই প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সংস্কৃতি ডটকমের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন। ক্লিক করুন এই লিংকে। ধন্যবাদ।

আব্বাস কিয়ারোস্তামি সত্তর-এর দশক থেকে ইরানের চলচ্চিত্রাঙ্গণে শুরু হওয়া ইরানী নবতরঙ্গ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এই আন্দোলনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফারুগ ফারোখ্‌জদ, সোহরাব শহিদ সলেস, মোহসেন মাখমালবফ, বহরম বেইজাই এবং পারভেজ কিমিয়ভি। তাদের নির্মাণ কৌশলে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন কাব্যিক চিত্রনাট্য, রূপক গল্প, রাজনৈতিক এবং দার্শনিক চিন্তাধারার প্রতিফলন।

আব্বাস কিয়ারোস্তামির চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও শব্দ সংযোগ সবকিছুতেই তার একচ্ছত্র প্রভাব থাকে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কবিতা, চিত্রশিল্প এবং গ্রাফিক ডিজাইন এর জগতেও তার পদচারণা রয়েছে।

১৯৭০ সাল থেকে নিয়মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য, প্রামাণ্য এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য সব ধরণের চলচ্চিত্র নির্মাণ করে যাচ্ছেন তিনি। কোকের ত্রয়ী, টেস্ট অফ চেরি এবং দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস এর মত সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন, এর মধ্যে টেস্ট অফ চেরি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দো ওর অর্জন করেছে।

শিল্পের সাথে তার প্রথম পরিচয় চিত্রকলার মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা শুরু করেন যার ফলশ্রুতিতেই ১৮ বছর বয়সে লাভ করেন প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। এর কিছুদিন পরই বাড়ি ছেড়ে তেহরান চলে যান ইউনিভার্সিটি অফ তেহরানে চারুকলায় পড়ার জন্য। চিত্রকলার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করে যোগ দেন ট্রাফিক পুলিশের চাকরিতে। কিছুদিন পর আবার পরীক্ষা দিয়ে চিত্রকলায় উত্তীর্ণ হন। যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়।  চিত্রকর, নকশাবিদ ও অংকনবিদ হিসেবে ষাটের দশক থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে তিনি ইরানী টেলিভিশনের জন্য প্রায় ১৫০টি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এই দশকের শেষের দিকে সিনেমার নাম ও ক্রেডিট ডিজাইন শুরু করেন এবং শিশুতোষ গ্রন্থের প্রচ্ছদ অংকন শুরু করেন।

নিজের কাজের পরিধি সম্পর্কে তার বক্তব্য হলো,

‘আমার অনেক পেশা আছে এবং কোন একটাই আমাকে খুব বেশী তুষ্ট করতে পারে না। অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আছে যারা একটা সিনেমা বানানোর সময় পরের সিনেমা নিয়ে চিন্তা শুরু করে। এরা আসলে শিল্পী হওয়ার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নয়। আমি সেরকম না, আমি ভবঘুরে। ভবঘুরে হওয়ার কারণে আমি সব ধরণের জায়গায় যেতে পারি, সব ধরণের কাজও করতে পারি। যেমন, আমি ছুতারের কাজ করেও অনেকটা সময় ব্যয় করি। মাঝেমাঝে এক টুকরো কাঠ কাটতে গিয়ে যে তৃপ্তি পাই, অন্য কোনকিছুর সাথেই তার তুলনা চলে না। নিভৃতে কাজ করলে আমার অন্তর শান্ত হয়।’

১৯৭৯ সালের যুগ পরির্বতনকারী ইরানী বিপ্লবের পর মাত্র গুটিকয়েক চলচ্চিত্রকার ইরানে থেকে গিয়েছিলেন যাদের মধ্যে আব্বাস একজন। অধিকাংশ নির্মাতাই পশ্চিমা দেশগুলোতে চলে যান। কিন্তু আব্বাস বিশ্বাস করেন দেশে থাকাটাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভাল সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি নিজেই বলেছেন, ইরানে থেকে নিজের জাতীয় পরিচয় ও সত্ত্বা আঁকড়ে থাকার কারণে তার চলচ্চিত্র জীবন মহিমাণ্ডিত হয়েছে:

মূলোৎপাটিত করে একটি গাছকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলে সে আর ফল দেবে না। অন্তত আপন স্থানে সে যত ভাল ফল দিত নতুন স্থানে তত ভাল দেবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আমি মনে করি দেশ ছেড়ে গেলে আমার অবস্থা হতো সেই গাছের মত।

আব্বাস কিয়ারোস্তামির চলচ্চিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—

‘পেশাদার অভিনেতা মানেই খারাপ কিছু তা আমি মনে করি না। তবে অপেশাদার অভিনেতা ব্যবহারের সুবিধা হোল, ছবিতে তারাই আমার চিত্রনাট্য ঠিক করে দেয়। আমি যেটা লিখি তা যদি তারা মুখে না-ই আনতে পারে বা ঠিক ভাবে বলতে না পারে তাহলে আমি ধরেই নিই, আমি যা লিখেছি তা ভুল। সঙ্গে সঙ্গে আমি চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনি।’

আব্বাস কিয়ারোস্তামির চলচ্চিত্রের সবচেয়ে অসাধারণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে, ফ্রেমে বন্দি অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। এ সম্পর্কে তার অভিমত হলো-

‘আমি বাস্তবতার দিকে শৈল্পিকভাবে তাকাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, আমি প্রধানত চিত্রকরের চোখ দিয়ে দেখি। প্রকৃতির দিকে তাকালে একটা ছবির ফ্রেম দেখতে পাই। সবকিছুকেই নৈসর্গ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। এমনকি ট্যাক্সিতে বসে যখন বাইরের দিকে তাকাই, তখনও সবকিছুকে ফ্রেমে বন্দি করে ফেলি। চিত্রশিল্প, আলোকচিত্র এবং সিনেমা- এই তিন শিল্প সম্পর্কেই আমি এই ধারণা পোষণ করি। কারণ এরা সবাই বাস্তবতাকে ফ্রেমে বন্দি করে। এরা পরস্পরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, কারণ প্রত্যেকেই ভুল, দুর্ঘটনা, সুযোগ ইত্যাদির সদ্ব্যবহার করে। আমি চিত্রকর রনোয়ারের কাছ থেকে উৎসাহ পাই যিনি বলতেন, ক্যানভাসে ভুলক্রমে কয়েক ফোঁটা রং পড়ে গেলেও খুব বেশী দুশ্চিন্তা করো না, বরং সেই ফোঁটা ব্যবহার করেই নতুন কিছু সৃষ্টির চেষ্টা কর।’

আব্বাস কিয়ারোস্তামীর চলচ্চিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাঁর প্রায় সব সিনেমাতেই মুখ্য চরিত্রটি থাকে পুরুষ। এ সম্পর্কে তার যে বক্তব্য তা হলো-

‘আমি আসলে মা বা প্রেমিকা হিসেবে নারীর ভূমিকা একেবারেই পছন্দ করি না। এছাড়া সহিংসতা বা দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তির শিকার হিসেবেও নারীর ভূমিকা ভাল লাগে না। আমার অভিজ্ঞতাও সেরকম না। নারীকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখাতে পছন্দ করি না। আমি আসলে কখনোই ব্যতিক্রমী কিছু দেখাই না। বিশেষ করে নায়কোচিত চরিত্রে নারীর ভূমিকা বাজে লাগে, কারণ এটা বাস্তবতা বিবর্জিত। সিনেমায় নারীকে আরেকটি ভূমিকায় দেখা যায়, সেটা হল সাজানোর বস্তু- শুধু ইরান না বিশ্ব চলচ্চিত্রেও এর ব্যাপক প্রভাব আছে। এ ধরণের কোন ভূমিকাই আমার ভাল লাগছে না।’

আব্বাস কিয়ারোস্তামির চলচ্চিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো – চলচ্চিত্রের গল্প অনেক সময় ইচ্ছে করেই অসমাপ্ত রাখা হয়। এ সম্পর্কে তার অভিমত হলো-

‘কোন একটা উপসংহারের মাধ্যমে সিনেমা শেষ না করার চিন্তাটা আমার মাথায় কয়েক বছর আগে এসেছিল। অধিকাংশ সময়ই দর্শকরা এ আশা নিয়ে সিনেমা দেখতে যায় যে, একটা গল্প বলা হবে। গল্পের বক্তা হিসেবে আমি এবং সিটে বসে সেই গল্প উপভোগ করতে থাকা দর্শকের মধ্যে এই বিভাজন আমি পছন্দ করি না। বরং এটা ভাবতে ভালবাসি যে, দর্শকরা আরও বেশী বুদ্ধিমান। এ কারণেই আমি দুই ঘণ্টা তাদেরকে বন্দি করে রেখে গল্প শোনানো এবং আমি যেভাবে চাই ঠিক সেভাবেই গল্পটা শেষ করে দেয়ার পক্ষপাতি নই। সুতরাং আমি আসলে তাদেরকে বেশী ক্রেডিট দিতে চাই, সিনেমার সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সৃষ্টি বা সৃষ্টির সাথে মিশে যাওয়ার উপলব্ধিটা জাগিয়ে তুলতে চাই। অনেক শিল্পী তাদের সিনেমা একেবারে নিখুঁত করতে চান, কিন্তু আমি সেরকম পূর্ণতা খুঁজি না। আমার কাছে পূর্ণতার সংজ্ঞা হচ্ছে, দর্শক সিনেমায় কতটুকু অংশ নিতে পারল সেটা। সুতরাং ভাল সিনেমা সেটাই যেটা দর্শককে বন্দি করে রাখে না বরং তাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিতে পারে।’

আব্বাস কিয়ারোস্তামির চলচ্চিত্রে গাড়ির বহুল ব্যবহার দেখা যায়। গাড়ি বিশেষ করে ব্যক্তিগত কারের ভেতরকার কথোপকথন তার চলচ্চিত্রে আসে বিচিত্র ভঙ্গিমায়। তিনি অনেক সময়ই গাড়ির ভেতর রাখা একটি স্থির ক্যামেরায় চালক এবং যাত্রীর কথোপকথন ধারণ করেন। েএ বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন-

‘আমার গাড়িই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। সে-ই আমার অফিস, আমার বাড়ি, আমার লোকেশন। যখন গাড়িতে বসে থাকি আর আমার পাশের সিটেও কেউ থাকে, তখন খুব অন্তরঙ্গ একটা অনুভূতি চেপে বসে। আমরা দুজন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি, মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি। আমাদেরকে সবসময় পরষ্পরের দিকে তাকাতে হচ্ছে না, যখন চাচ্ছি কেবল তখনই তাকাচ্ছি। চারপাশটাও দেখতে পাচ্ছি, পাশে কাউকে বসিয়ে রেখে আশপাশে তাকানোটা সাধারণত অসভ্যতা হলেও, এক্ষেত্রে তেমন কোন সম্ভাবনা থাকছে না। আমাদের সামনে একটা বড় স্ক্রিন আছে, পাশের স্ক্রিনে সাইড ভিউও পাওয়া যাচ্ছে। নিরবতাও এখানে ভারী বা কষ্টকর মনে হয় না। একে অপরকে সার্ভ করারও প্রয়োজন পড়ে না। আসলে এই অভিজ্ঞতার আরও অনেক দিক আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হচ্ছে, গাড়ি আমাদেরকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বয়ে নিয়ে যায়।’

আব্বাস কিয়ারোস্তামি চলচ্চিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সমসাময়িক ইরানী কবিতার প্রভাব তার সিনেমায় খুব সহজেই লক্ষ্যণীয়। এ প্রসঙ্গে তার অভিমত হলো-

‘সিনেমাকে বলা হয়েছে “সপ্তম শিল্প”। এই কথাটি দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়: এটা অন্যান্য শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে, সে হিসেবে একে অন্যান্য সব শিল্পের যোগফল বলা যায়। অথবা বলা যায়, সবচেয়ে পরিপূর্ণ শিল্প মাধ্যম। আর সিনেমা যদি সপ্তম শিল্পও হয়, তারপরও এটা বেশ আয়রনিক যে, চিত্রকলা, সঙ্গীত ইত্যাদি সব শিল্পেরই বিবর্তন ঘটেছে অর্থাৎ তারা পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সিনেমার ক্ষেত্রে এমন কিছু হয়নি। সিনেমা আগে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমন আছে: এটা এখনও গল্প বলার উপর খুব বেশী নির্ভর করে। “কাব্যিক চলচ্চিত্র” বলার মাধ্যমে আমি কোন মানবিক মেসেজ দিতে চাচ্ছি না। আমি বলছি, সিনেমা কবিতার মত হয়ে উঠতে পারে, কবিতার জটিল গুণগুলো অর্জন করতে পারে, এবং এমনকি কবিতার বিশাল বিত্ত-বৈভবের অংশীদার হতে পারে। কবিতার মত সিনেমাও প্রিজমের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

এ ধরণের অর্থাৎ প্রিজমের মত সিনেমার ক্ষমতা চিরন্তন- নির্দিষ্ট কোন পরিস্থিতি এবং সময়ে আপনি এর সাথে বিভিন্ন উপায়ে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন এবং মানুষ নিজেকেও এর মধ্যে খুঁজে পাবে। আমি মনে করি, সিনেমারও অন্যান্য শিল্পের পথ অনুসরণ করা উচিত, একই ধরণের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত, এবং একই ধরণের আউটলুক অর্জন করা উচিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে দর্শকদেরকে একটু ছাড় দিতে হবে, চলচ্চিত্রের কাছ থেকে শুধু বিনোদন আশা করলে হবে না। কবিতা না বুঝলে কেউ সেটাকে বাজে কবিতা বলে সাব্যস্ত করে না। বরং সেটার সাথেই বাস করতে শুরু করে। যখন কেউ গান শুনতে যায় তখন তার কাছ থেকে কোন গল্প শোনার আশা করে না। বিমূর্ত চিত্রের দিকে তাকালে কোন ন্যারেটিভ মনে আসে না। তাৎক্ষণিক বা সরল বাস্তবতা নয়, ছবির কারুকার্য ও সংগঠনের মাধ্যমেই সেটার অর্থ বুঝতে চেষ্টা করে। আমি আশাকরি সিনেমা স্ক্রিনের সামনে বসে তারা সে কাজটাই করবে।’

চলচ্চিত্রকার হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘প্রিক্স রবার্তো রসোলিনি’ (১৯৯২), ‘ফ্রান্সিস ত্রুফো অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৩), ‘পিয়ার পাওলো প্যাসোলিনি অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৫), ইউনেস্কোর ‘ফ্রেডরিকো ফেলেনি গোল্ড মেডেল’ (১৯৯৭), গ্রিসের ‘গোল্ডেন আলেকজান্ডার অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৯), ‘আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড’ (২০০০), কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসবের ‘ওয়ার্ল্ড’স গ্রেট মাস্টার্স’ (২০০৭), ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভেলের ‘গ্লোরি টু দ্য ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড’ (২০০৮) ইত্যাদি। এছাড়া ২০০৫ সালে দ্য ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে অর্জন করেন ফেলোশিপ।

কিয়ারোস্তামি নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো— ‘ক্লোজআপ’ (১৯৯০), ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ’ (১৯৯৫) ‘টেস্ট অব চেরি’ (১৯৯৭), ‘দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস’ (১৯৯৯), ‘এবিসি আফ্রিকা’ (২০০১), ‘টিকেটস’ (২০০৫), ‘চাকান অন সিনেমা’ (২০০৭) প্রভৃতি। ‘ফাইভ’ (২০০৩) আব্বাস নির্মিত খুবই বিখ্যাত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

আব্বাস পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘সার্টিফাইড কপি’ মুক্তি পায় গত বছর। এতে অভিনয় করে জুলিয়েট বিনোশি গত বছর কান উৎসবে সেরা অভিনেত্রী শাখায় পুরস্কার পান। আব্বাস এখন ‘দ্য এন্ড’ নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করছেন।

আরও পড়ুন :

আব্বাস কিয়ারোস্তামির সাক্ষাৎকার।

আব্বাস কিয়ারোস্তামির সাক্ষাৎকার : পর্ব ২

 

পার্থিব রাশেদ

পার্থিব রাশেদ

সম্পাদক, সংস্কৃতি ডটকম।

Leave a Response